বড়লেখা প্রতিনিধি | ১১ অক্টোবর, ২০২০
ধর্ষকদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান জানিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি বলেছেন, ‘ধর্ষকদের কেউ আশ্রয়-প্রশ্রয় দিবেন না। পক্ষ নিবেন না। তাদের সামাজিকভাবে বর্জনের পাশাপাশি পারিবারিকভাবেও বর্জন করতে হবে। কোনো বিবেকবান মা-বাবা, স্বজন এদের আশ্রয় দিতে পারেন না। জঘন্যতম এই অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার একমাত্র পথ হচ্ছে এদের বর্জন করা। এটা করলেই এরা নিয়ন্ত্রণে আসবে।’
রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের পাকশাইল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ উপলক্ষে বড়লেখা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান।
বড়লেখা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত লায়লা নীরা, পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার। স্বাগত বক্তব্য দেন বড়লেখা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের কাজ বাস্তবায়ন করছে। ১২ হাজার ৭শত ৮৮ বর্গফুটের এই আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ কাজে সরকারের ব্যয় হবে ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
সভায় বড়লেখায় তরুণী ধর্ষণ ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘জঘন্যতম এ ঘটনায় জড়িত দুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। এদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া দরকার। এ কয়দিন আগে সিলেটে ধর্ষণের জঘন্যতম ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সিলেটবাসীর মুখে কালিমা লেগেছে। মানুষ প্রতিবাদ করছে। ঢাকা থেকে পায়ে হেটে কয়েকজন যুবক সিলেট এসেছেন প্রতিবাদ জানাতে। আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছে। অপরাধীদের শাস্তি হবেই। কেউ রেহাই পাবে না।’
এদিকে মন্ত্রী একই স্থানে শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে বড়লেখা উপজেলার ১২৯টি সার্বজনীন পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দের কাছে জিআর চালের ডিও তুলেদেন এবং অসহায় ও কর্মহীন ২০০শত পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেন। প্রত্যেক পূজামণ্ডপ পেয়েছে ৫০০ কেজি করে চাল। শুকনা খাবারের প্রতিটি প্যাকেটে রয়েছে ১০ কেজি মিনিকেট চাল, ১ কেজি মসুর ডাল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিনি, চিড়া ২ কেজি, নুডলস্ ৫০০ গ্রাম, ১ লিটার ভোজ্যতেল।
সার্বজনীন পূজামণ্ডপে চালের ডিও বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন ছাড়াও বক্তব্য দেন পূজা উদযাপন পরিষদ উপজেলা শাখা সভাপতি বিধান দাস, সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত পাল, তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস, উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটন।