Sylhet Today 24 PRINT

রায়হানকে নির্যাতন করা হয়নি, দাবি পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১২ অক্টোবর, ২০২০

হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকা রায়হানের ক্ষতবিক্ষত হাত

পুলিশের নির্যাতনেই রায়হান উদ্দিন (৩৩) নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হলেও তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি বলে দাবি করেছে পুলিশ।

তবে প্রথমদিকে রায়হান ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হলেও পরে চাপের মুখে পুলিশ দাবি করে ছিানতাইকারীরাই রায়হানকে নির্যাতন করে। মূমূর্ষ অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে  নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে রায়হান উদ্দিন (৩৩) নামে সিলেট নগরের আখালিয়ার এই যুবক নিহত হন। তিনি নগরীর মীরের ময়দান এলাকায় এক চিকিৎসকের সহকারি হিসেবে কাজ করতেন।

রোববার সকালে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার জানিয়েছিলেন, ছিনতাইকালে নগরের কাষ্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে নিহত হন রায়হান।

বিজ্ঞাপন



তবে বিকেলে এমন দাবি অস্বীকার করে রায়ানের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়, পুলিশের নির্যাতনে খুন হয়েছেন রায়হান। বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে রোববার ভোরে রায়হানের পরিবারের কাছে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। রায়হান হত্যার প্রতিবাদে বিকেলে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভও করে আখালিয়া এলাকাবাসী।

এমন অভিযোগের পর রোববার বিকেলে নগরের ০বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন দাবি করেন, ভোররাতে এএসআই আশিক এলাহির নেতৃত্বে রায়হানকে উদ্ধার করা হয়। ছিনতাইকারী একটি গ্রুপ তাকে নৃশংসভাবে নির্যাতন করে ফেলে রাখে। রায়হান নিজেও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত বলে দাবি করে তিনি জানান, কোতোয়ালি থানায় তার নামে দুটি মামলা আছে, তিনি মাদকও গ্রহণ করতেন। তাকে ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতনের প্রশ্নই আসে না। সিসিটিভির ফুটেজ দেখলেও এমন অভিাযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে সিটি করপোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে গিয়ে কাষ্টঘর এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে ওই এলাকায় শনিবার রাত বা রোববার ভোরে কোনো মারধরের ঘটনা দেখা যায়নি।

স্থানীয় কাউন্সিল নজরুল ইসলাম মুনিম এবং স্থানীয় এলাকাবাসীরাও এরকম কোনো ঘটনার কথা শুনেনি বলে জানিয়েছেন।

রায়হান উদ্দিনের চাচা (যিনি রায়হানের সৎ বাবাও) হাবিবুল্লাহ বলেন, রোববার ভোর ৪টার দিকে একটি অপরিচিত নাম্বার (০১৭৮৩৫৬১১১১) থেকে আমাকে ফোন দেওয়া হয়। ফোন ধরার পর কথা বলে রায়হান। সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকে ‘আমারে বাঁচাওরেবা। আমারে বাঁচাও।’ এরপর আমি তার অবস্থান জানতে চাইলে সে জানায়, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আছে। এসময় ফাঁড়িতে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে বলে রায়হান।

বিজ্ঞাপন



হাবিবুল্লাহ বলেন, ফোন পেয়ে সাথেসাথেই আমি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যাই। তখন সেখানে অবস্থানরত একজন বলেন, সে (রায়হান) ঘুমিয়ে পড়েছে। এখন দেখা করা যাবে না।

এরপর পাশ্ববর্তী কুদরতউল্লাহ মসজিদে নামাজ আদায় করে সকালে আবার পুলিশ ফাঁড়িতে যান উল্লেখ করে হাবিবুল্লাহ বলেন, ফাঁড়িতে যাওয়ার পর একজন লোক আমাকে বলেন, ‘আপনি ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথাছিলো। টাকা এনেছেন?’ কিছু টাকা এনেছি জানানোর পর তারা আমাকে বসিয়ে রাখেন। এরপর ১০টার দিকে বলেন, ‘আপনার ছেলের শরীর খারাপ করেছিলো। তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। ওসমানী হাসপাতাল গিয়ে তাকে দেখতে পারবেন।’

হাবিবুল্লাহ বলেন, এরপর আমি ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পারি হিমঘরে রায়হানের লাশ পড়ে আছে। পুলিশই নির্যাতন করে রায়হানকে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ তার।

এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রাত পর্যন্ত থানায় এ ব্যাপারে লিখিত কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সিলেট কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.