শাকিলা ববি | ১৫ অক্টোবর, ২০২০
ফাইল ছবি
হবিগঞ্জের সদর উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের পারভিন আক্তার। স্বামী কোনো কাজ করতে পারেন না তাই প্রায় ৪ বছর আগে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরব যান। প্রতি মাসেই তিনি প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পাঠান বাড়িতে। তার এই টাকা দিয়েই সন্তানদের নিয়ে সংসার চালান স্বামী। পারভিনের মত শতশত গ্রামীণ নারী প্রবাসে কাজ করে দেশে টাকা পাঠান। তাদের পাঠানো এই টাকা বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখছে।
প্রবাসে কর্মরত প্রায় সব নারীই গ্রামীণ জনপদের উল্লেখ করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, প্রবাসে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যে নারীরা যাচ্ছেন তাদের প্রায় সবই গ্রামীণ জনপদের। অনেক নারী এমনও আছেন যারা মফস্বল থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাননি। কিন্তু কাজের জন্য তারা সৌদি আরব, জর্ডান, লেবানন, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন। দেশে রেমিটেন্স পাঠানোর ক্ষেত্রেও পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে। কারণ বেশিরভাগ সময় দেখা যায় পুরুষরা যে টাকা বেতন পান তার একটা অংশ বিভিন্ন ভাবে খরচ করে বাকি টাকা দেশে পাঠান। কিন্তু এক্ষেত্রে নারীদের বাড়তি কোনো খরচ না থাকায় নিজের খরচের টাকা রেখে পুরো টাকাই দেশে পাঠিয়ে দেন।
আজ ১৫ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। ১৯৯৫ সালে বেইজিং এ আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে ১৫ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর ২০০৭ এ দিবসটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক স্বীকৃতি পায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস পালিত হয়ে আসছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৬৩টি দেশে প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৭ জন প্রবাসী রয়েছেন। এর মধ্যে ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩২ জন নারী কর্মী। এদের মধ্যে সৌদি আরবেই রয়েছেন ৩ লাখ ৩২ হাজার ২০৪ জন।
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের শাহেনা বেগম (৩৮)। দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তিনি। স্বামী কাজ করেন না তাই সংসার চালানোর উপার্জনের দায়িত্ব তাকেই নিতে হয়। চার সন্তানের জননী শাহেনা জর্ডান গিয়েছিলেন। বেতন কম দেওয়ায় ফিরে এসে আবার সৌদি আরব যান। এখন সৌদি থেকে প্রতি মাসেই টাকা পাঠান দেশে।
গ্রামীণ নারীদের প্রবাসের জীবনযাপন নিয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, যে নারীরা প্রবাসে যান তারা বেশিরভাগই গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত নারী। অভাব অনটন সহ্য করতে না পেরে ভাগ্য পরিবর্তন করতে তারা প্রবাসে যান। গ্রাম থেকে প্রবাসে গিয়ে অনেক নারী সেই দেশের সংস্কৃতি বুঝতে পারেন না। বিশেষ করে খাবার, ভাষা, ঘুমসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম নিয়ে সমস্যায় পরেন। এই সমস্যায় অনেকই কাটিয়ে উঠতে পারেন, অনেকেই পারেন না। যারা এসব মানিয়ে নিতে না পারেন তারা ফিরে আসেন। তবে অনেক নারীই প্রবাসের প্রতিকূল পরিবেশ মানিয়ে নিয়ে রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।