গোয়াইনঘাট সংবাদদাতা | ৩০ জানুয়ারী, ২০১৫
গোয়াইনঘাট রাস্তা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। রাস্তাটির ছোট-বড় প্রতিটি ব্রিজের উভয় পাশ রাস্তা থেকে প্রায় ১ফুট উঁচু। পুরো রাস্তাই খানা খন্দে ভরা। কোথাও হাঁটু কোথাও উরু পর্যন্ত গর্তের বিস্তৃতি। আরসিসি ঢালাই করা এ রাস্তা ভেঙ্গে গর্ত হয়ে রড বের হওয়ায় প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষ। একসময় এ রাস্তা দিয়ে বাস ও মিনিবাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাথর-কোয়ারি বিছনাকান্দির সমস্ত পাথর উক্ত রাস্তা দিয়ে দেশ ও বিদেশে প্রতিনিয়ত সরবরাহ হচ্ছে।
পাথরবাহী ট্রাক চলাচল করায় যাত্রীবাহী সিএনজি, লেগুনা এমনকি একটি মোটর বাইক উক্ত রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় দাঁড়িয়ে অপর দিক থেকে আসা গাড়িকে পাস অথবা মরণের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। ফলে এ পর্যন্ত দুর্ঘটনায় মারা যান আঙ্গারজুর গ্রামের মখলিছ মিয়া, নাজিম উদ্দিন, বৌল গ্রামের মকবুল আলী, নন্দিরগাঁও গ্রামের সিরাজুন নেছা, নওয়াগাঁও গ্রামের নাজমা বেগম সহ নাম না জানা আরোও অনেকে। অপর দিকে উক্ত রাস্তায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পঙ্গু হয়েছেন আঙ্গারজুর গ্রামের আলী হোসেন, নওয়াগাঁও গ্রামের নাছির উদ্দিন, এরশাদ আলী এবং তোয়াকুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা গীতা বাড়ৈ সহ আরোও অনেক।
প্রয়াত অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান ১৯৯৪ সালে বিশেষ প্রকল্পের আওতায় সালুটিকর-গোয়াইনঘাট রাস্তার ২১ কিলোমিটার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নের অন্তর্ভুক্ত করে আরসিসি ঢালাই ধারা নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে রাস্তার উভয় পার্শ্বে ৩ ফুট করে ইট দ্বারা সম্প্রসারণ করেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় ঐক্য জোট সরকারের সময়ে দিলদার হোসেন সেলিম। পরবর্তীতে মাঝে মধ্যে সংস্কার করা হলেও রাস্তাটি সম্প্রসারণ ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না করায় রাস্তার এহেন দশা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী কামরুল হাসান বলেন, ৩ লক্ষাধিক জনসাধারণের চলাচল ও বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারির পাথর সরবরাহের জন্য উক্ত রাস্তাটি সম্প্রসারণ ও সংস্কার অতি জরুরি। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদের হস্থক্ষেপ কামনা করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সম্প্রসারণ ও সংস্কারের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী এএইচএম কামরুজ্জামান বলেন, এ রাস্তাটি সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য আরটিআইপি-২ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করে ১৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা প্রাক্ষলিত বাজেট করা হয়েছে। বাজেট যাচাই বাছাই করে শিঘ্রই কাজ শুরু করা হবে। গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী বলেন, রাস্তাটি সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে একাধিকবার পত্র চালাচালি করিয়াছি। কিছু দিনের মধ্যে উক্ত রাস্তাটির কাজ শুরু হবে আমি আশাবাদী।