সদরুল আমিন, ছাতক | ০২ নভেম্বর, ২০২০
ছাতক সিমেন্ট কারখানার নিচু ভূমিতে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। সেলিম ব্রাদার্স নামের স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান এই কাজ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কারখানার মালিকানাধিন টিলা কেটে মাটি এনে কারখানার কাছেই বিক্রি করছে। এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আবার ছাতক সিমেন্ট কারখানার সিবিএ সেক্রেটারি আব্দুল কুদ্দুছ জড়িত বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ছাতক সিমেন্ট কারখানাকে ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরের কাজ চলছে। প্রায় ৯'শ কোটি টাকার চলমান এই প্রকল্পের কাজে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। এই পু্রকল্পের অংশ হিসেবেই চলছে মাটি ভরাটের কাজ।
মাটি ভরাটের কাজ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কারখানার নিজস্ব টিলা থেকে মাটি ও বালু এনে কারখানার কাছেই বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ছাতক সিমেন্ট কারখানার জেনারেল অফিস সংলগ্ন নতুন প্রকল্পের বিশাল এলাকার নিচু ভূমি ও প্রধান গেট সংলগ্ন এলাকায় মাটি ভরাট করছে তারা। চায়নার নানজিং সি-হোপ সিমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে মাটি ভরাট কাজ নেয় সেলিম ব্রাদার্স।
বিজ্ঞাপন
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিমেন্ট কারখানার সিবিএ সেক্রেটারি আব্দুল কুদ্দুছের সেলিম ব্রাদার্সের নামে কাজ নিয়ে কারখানার সংরক্ষিত লালপাহাড় থেকে মাটি সংগ্রহ করে কারখানায় মাটি সাপ্লাই দিচ্ছেন। প্রতি রাতেই ভারী ট্রাক দিয়ে কারখানায় মাটি আনার ফলে সিমেন্ট কারখানার ৪ নং এলাকা থেকে কারখানার অভ্যন্তর পর্যন্ত চলাচলের পাকা রাস্তাটি ভেঙ্গে গেছে। জনসাধারণের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় জিয়াউল হক, ফয়সল আহমদ, মাসুক মিয়া, সাইফুল আলম সহ ৪ নং বাজার এলাকার লোকজন জানান, রাতে এস্কেভেটর দিয়ে টিলা কেটে ট্রাকে করে মাটি ও টিলার নিচের বালু কারখানায় নিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারের লোকজন। লাল পাহাড়ের মাটি ছাতক সিমেন্ট কারখানায় উন্নত সিমেন্ট তৈরির কাজে ব্যবহার হতো। এখন খাল ভরাটের কাজে লাল পাহাড়ের মাটি ঠিকাদাররা ব্যবহার করছে।
এ ব্যাপারে সিবিএ সেক্রেটারি আব্দুল কুদ্দুছের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ছাতক সিমেন্ট কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নতুন প্রকল্পের পরিচালক এএফএম বারী বলেন, কারখানার নিজস্ব টিলা থেকে ঠিকাদার কর্তৃক মাটি সংগ্রহের বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য সিকিউরিটি কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। বিষয়টি সঠিক হলে দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।