শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | ০৩ নভেম্বর, ২০২০
করোনাকালে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে গাছ চুরির বিষয়ে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) একটি প্রতিনিধি দল লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে পরিদর্শন করেছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রতিনিধি দল লাউয়াছড়ার ভিতর, মুজিব টিলা, বাঘ মারা, ফুল বাড়িসহ বনের আশপাশ ঘুরে দেখেন। এসময় বাপা নেতৃবৃন্দ দেখতে পান উল্লিখিত এলাকাগুলোতে বেশ কিছু গাছের মোতা রয়েছে।
পরিদর্শন দলে ছিলেন বাপা জাতীয় পরিষদ সদস্য ও মৌলভীবাজারের সমন্বয়কারী আ সম ছা লেহ সোহেল, বাপা জাতীয় পরিষদ সদস্য হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল, বাপা হবিগঞ্জের জীবন সদস্য ডাক্তার আলী আহসান চৌধুরী পিন্টু ও স্থানীয় সাংবাদিক হৃদয় দাস শুভ।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উল্লেখিত এলাকাগুলো থেকে চুরি যাওয়া গাছগুলো বড় ট্রাকসহ তারা আটক করে জব্দ করেছেন ও গাছের মতাতে সিল মেরে ( লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত) রেখেছেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও এ সময়ে রেলওয়ের জনৈক প্রকৌশলী ৩টি গাছ চুরি করে নিলে সেগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগ।
গাছ চুরির ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্তে ১৬১টি গাছ বিভিন্ন সময়ে চুরি হয়েছে বলে জানা যায়। বনরক্ষীদের স্বল্পতার কারণে বৃহৎ এই বনাঞ্চল যথাযথভাবে তদারকিও করা সম্ভব হয়ে ওঠে না বলে বন বিভাগের কেউ কেউ অভিমত দেন।
বাপা প্রতিনিধিদল মনে করেন শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জ পর্যন্ত লাউয়াছড়া বনের ভেতর দিয়ে যে রাস্তাটা রয়েছে সেই রাস্তা দিয়ে সহজেই চুরেরা গাছ চুরি করে নিয়ে যেতে পারে। এ রাস্তাটিতে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে চলাচলের কারণে যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রতিদিনই বনের বিভিন্ন ধরনের প্রাণী মারা যায়।
শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জের সড়কটি চলাচলে নিয়ন্ত্রিত করে বিকল্প সড়কের মাধ্যমে চলাচলের ব্যবস্থা করলে গাছ চুরিসহ বনের প্রাণ-প্রকৃতি বাঁচানো সম্ভব। এছাড়া লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির কি পরিমাণ গাছ রয়েছে সে ব্যাপারে স্টাডি করা প্রয়োজন বলে বাপা প্রতিনিধিদল মনে করেন।