Sylhet Today 24 PRINT

বড়লেখা পৌরসভার ছয় রাস্তা বেহাল, জনদুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০৪ নভেম্বর, ২০২০

মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার অভ্যন্তরের ছয়টি রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। রাস্তাগুলোর ইট-বালু, ঢালাই ও বিটুমিন উঠে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ আর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে দুটি রাস্তা প্রায় ১৫ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় করুণ দশা হয়েছে। ভাঙাচোরা এসব রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে মানুষের চরম দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে।

বড়লেখা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, এই পৌরসভায় পাড়া-মহল্লাসহ পাকা ও কাঁচা মিলিয়ে মোট রাস্তা রয়েছে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। এরমধ্যে পাকা রাস্তা আছে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। প্রায় ২০ কিলোমিটারের মতো রয়েছে কাঁচা রাস্তা। পৌর এলাকায় ড্রেন আছে মোট ২১ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এরমধ্যে কাঁচা ১৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার। পাকা ২ কিলোমিটার।

মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডেরসহ ছয়টি রাস্তার প্রায় ৮ কিলোমিটার বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক সড়ক থেকে সাবেক নারী কাউন্সিলর ফাতেমা বেগমের বাড়ির পাশ দিয়ে বড়বাড়ী পর্যন্ত যাওয়া আরসিসি ঢালাই করা রাস্তার বেহাল অবস্থা। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও বৃষ্টির পানি জমে আছে। প্রায় ১৫ বছরেও এ রাস্তায় কোনো কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে দুভোর্গ পোহাচ্ছেন রাস্তাদিয়ে চলাচলকারী লোকজন। ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অভ্যন্তরের গাজিটেকা হেকিম বাড়ি হতে বাসতলা-আব্দুল জব্বারের বাড়ি পর্যন্ত দুটি পাকা রাস্তার প্রায় ৩ কিলোমিটার বেহাল অবস্থা। প্রায় ৫ বছর ধরে এ অবস্থা রাস্তাগুলোর। রাস্তার ইট-বালু, ঢালাই ও বিটুমিন উঠে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ আর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। হাজী আজির উদ্দিন মিয়ার বাড়ি হতে গাজিটেকা ষাটহাল গৌছ উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত ইটসলিং রাস্তার বেহাল অবস্থা। এই ইটসলিং রাস্তাটিও প্রায় একযুগ ধরে বেহাল। স্থানীয়রা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোপাল দের বাড়ি হতে সদর ইউনিয়নের সীমানা পর্যন্ত ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পাকা সড়কের অবস্থা বেহাল। এ রাস্তার বেশিরভাগ অংশের কার্পেটিং উঠে গেছে। কোথাও খানাখন্দে ভরে গেছে। গত ১৫ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় রাস্তাটি। বড়লেখা-ডিমাই সড়ক থেকে বাঘমারা পর্যন্ত পাকা রাস্তার অবস্থা রাস্তার পিচঢালাই উঠে এবড়োথেবড়ো হয়ে গেছে। ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৫ বছর ধরে এ অবস্থা। মুছেগুল মজনু মিয়ার বাড়ি হতে খছরুজ্জামানের বাড়ি পর্যন্ত ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বেহাল দশা। পৌরসভা সৃষ্টির পর থেকে এ অবস্থা। এছাড়া পৌরসভার অন্য ওয়ার্ডের কাঁচা সড়কগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ। বর্ষায় মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাসমিন বেগম বলেন, ‘গত ৬ বছর থেকে এই এলাকায় ভাড়াটিয়া থাকি। রাস্তাটির অবস্থা খুব খারাপ। সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। এখানে আসার পর জেনেছি ১৫ বছর ধরে রাস্তা ভাঙা। রাস্তা দিয়ে চলাচলে খুব কষ্ট হয়। একটু বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে যায়।’

৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মুছেগুল গ্রামের বাসিন্দা কামাল আহমদ বলেন, ‘পৌরসভার থেকে ইউনিয়নে ভালো ছিলাম। প্রায় ২০ বছর হয়ে গেছে এখনো কাঁচা সড়ক দিয়ে চলাচল করছি।’

১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাবর হোসেন শিপলু বলেন, ‘আমাদের এলাকার রাস্তাটি ৫-৬ বছর ধরে খারাপ। গত পৌরসভা নির্বাচনের আগেও খারাপ ছিল। আরেক নির্বাচন চলে আসছে কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ভাঙা রাস্তায় কত কষ্ট হয়, যারা চলাচল করে তারাই বুঝে।’

এ ব্যাপারে বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার অনুকূলে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এ প্রকল্পে ৩ ধাপে কাজ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের জুনমাসে। কিন্তু প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা ও করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজ সম্পন্নে বিলম্ব হচ্ছে। ৩ ধাপের মধ্যে ২ ধাপের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ধাপের কাজ শেষ পর্যায়ে। ২য় ধাপের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। ৩য় ধাপের টেন্ডারের জন্য প্রক্রিয়াধীন। কয়েকটি সড়কের অবস্থা খারাপ আছে। করোনা সংকট না থাকলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভার অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ সব সড়ক মেরামত হয়ে যেত। বেশি খারাপ রাস্তাগুলোর মধ্যে ২টির টেন্ডার হয়েছে। ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য ৪টি রাস্তা তৃতীয় ধাপে কাজ হবে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.