সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৫ নভেম্বর, ২০২০
নিজের শিশুসন্তানের সঙ্গে তার চাচাত ভাই আমির হামজা (৩) -এর ঝগড়া সত্য হয়নি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে রোজি বেগমের। তাই ঘরে ডেকে এনে বালিশ চাপা দিয়ে শিশু আমির হামজাকে হত্যা করেন রোজি।
আমির হামজা (৩) নিহতের ঘটনায় চাচাতো বোন রোজি বেগম (২৩) ও তার ভাই জুনাইদ আহমদ (২০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে।
এর আগে গত সোমবার রাত নয়টায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে একটি অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে মুখে স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় আমির হামজা (৩) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নবীগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর গ্রামের কৃষক আবদুর রশীদের পাশের ঘরে বসবাস করতেন তার ভাতিজি রোজি বেগম। স্বামীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। রোজির তিন বছর বয়সী এক শিশুকন্যা রয়েছে। এ শিশুর সঙ্গে আবদুর রশিদের একই বয়সের শিশুপুত্র আমির হামজার প্রায় সময়ই ঝগড়া লেগে থাকত। এ ঝগড়াকে ঘিরে বড়দের মধ্যেও ঝগড়াঝাঁটি হতো। এ নিয়ে রোজি বেগম ক্ষুব্ধ ছিলেন শিশু আমির হামজার ওপর। গত সোমবার সন্ধ্যায় তিনি আমির হামজাকে তার ঘরের ভেতরে ডেকে নিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। এ দৃশ্য দেখে ফেলেন তার ছোট ভাই জুনাইদ আহমদ। পরে তিনি উত্তেজনার বশে কাজটি করে ফেলেছেন বলে তার ভাইকে জানিয়ে লাশটি গুম করতে তার সহযোগিতা চান। একপর্যায়ে ভাইবোন মিলে শিশু আমির হামজার লাশ তাদের বাড়ির ভেতরে অবস্থিত একটি অটোরিকশার গ্যারেজে লুকিয়ে রাখেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে শিশুটিকে না পেয়ে তার বাড়ির লোকজন সর্বত্র খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে বাড়ির অটোরিকশা গ্যারেজে গিয়ে দেখে, শিশুটি মাটিতে শুয়ে আছে। তার মুখে স্কচটেপ মোড়ানো। সেখান থেকে দ্রুত উদ্ধার করে তারা নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া রোজি বেগম ও তার ভাই গতকাল বুধবার হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা বেগমের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে রোজি বেগম বলেন, তার তিন বছরের কন্যাসন্তানকে আমির হামজা প্রায় সময় মারধর করত। যে কারণে তিনি বিরক্ত হয়ে আমির হামজাকে বালিশ চাপা দিয়ে নিজের ঘরে হত্যা করেন। এ সময় তার ভাই জুনাইদ ঘটনাটি দেখে ফেলায় তার সহযোগিতায় লাশ গুম করার চেষ্টা করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে রোজি ও জুনাইদ দুজনই জড়িত। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা আবদুর রশিদ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। আসামিরা বর্তমানে আদালতের নির্দেশে হবিগঞ্জ কারাগারে আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাহুবল-নবীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পারভেজ আলম চৌধুরী, নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান প্রমুখ।