Sylhet Today 24 PRINT

শ্রীমঙ্গলে দুর্ঘটনা: পাঁচ ট্রেনের যাত্রা বাতিল, দুর্ভোগে সিলেটের যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৮ নভেম্বর, ২০২০

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে পাঁচটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল হয়েছে। এতে হাজারো যাত্রীর গন্তব্যে পৌঁছা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

রাত পৌনে ১ টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধার করা যায়নি। ফলে যথারীতি বন্ধ রয়েছে সিলেটের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ।

শ্রীমঙ্গলে দুর্ঘটনার কারণে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে পারাবত, উদয়ন ও উপবন ছেড়ে যায়নি। এরমধ্যে পারাবত ও উদয়ন ঢাকায় এবং উপবন চট্টগ্রামে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

অসুস্থ বাবাকে নিয়ে শনিবার রাতে সিলেট থেকে ট্রেনে করে ঢাকা যাওয়ার কথা সিলেটের বেসরকারি চাকরিজীবী আবুল কাসেমের। দুদিন আগেই টিকিট কেটে রেখেছিলেন তিনি।

শনিবার রাত পৌনে ১০টায় ট্রেনটি সিলেট স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা। সাড়ে ৯টার দিকে তিনি স্টেশনে গিয়ে শুনতে পান শ্রীমঙ্গলে দুর্ঘটনার কারণে যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েন কাসেম।

তিনি বলেন, ‘‌রোববার বাবাকে ঢাকায় ডাক্তার দেখানোর কথা। অ্যাপয়েন্টমেন্টও নেয়া হয়েছে। স্টেশনে এসে জানতে পারলাম ট্রেন যাবে না। এখন খুব বিপাকে পড়েছি। অসুস্থ অবস্থায় বাবাকে নিয়ে বাসে করে যাওয়াও সম্ভব না। এখন কী করব?’

শনিবার সকাল ১১টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুতের ঘটনায় সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। কখন চালু হবে, সে বিষয়ে কোনো ধারণাও করতে পারছেন না কর্মকর্তারা।

শনিবার রাতে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় যাত্রীদের ভিড়। স্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগারে শুয়ে-বসে আছেন অনেকে। তবে স্টেশনে ট্রেন নেই। একের পর এক ট্রেনের যাত্রা বাতিল হচ্ছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন



সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক খলিলুর রহমান বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে দুর্ঘটনার কারণে সিলেট স্টেশন থেকে পারাবত, উদয়ন ও উপবন ছেড়ে যায়নি। এরমধ্যে পারাবত ও উদয়ন ঢাকায় এবং উপবন চট্টগ্রামে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে শনিবার বিকেলে কালনী ও রাতে উপবন সিলেট এসে পৌঁছার কথা থাকলেও এই ট্রেনগুলোর যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।’

যেসব ট্রেনের যা্ত্রা বাতিল করা হয়েছে তাদের টিকিটের টাকা ফেরত দেয়া হবে বলেও জানান স্টেশন ব্যবস্থাপক।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ডিভিশনাল প্রকৌশলী সুলতান আলী বলেন, দুর্ঘটনায় পড়া ট্রেন উদ্ধারে কাজ চলছে। রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগবে। মানুষের ভিড়ের কারণে উদ্ধার কাজ বিঘ্ন ঘটছে।

শ্রীমঙ্গল জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় ট্রেনের পেছনে থাকা  একটি ইঞ্জিন, একটি ব্রেক গার্ড এবং পাঁচটি কেরোসিন ও ডিজেল বোঝাই তেলের ওয়াগানসহ মোট সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে।  

বাংলাদেশ রেলওয়ে সিলেট ডিভিশনের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী দুলাল চন্দ্র দাশ জানান, ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ঢাকা) মঈনুল ইসলামের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটিতে আছেন বিভাগীয় প্রকৌশলী (ঢাকা) সুলতান আলী, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (ঢাকা) আবু হেনা, বিভাগীয় প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) রেজাউল করিম ও বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলী (ওয়াগন) রেজাউল করিম।

তদন্ত কমিটির প্রধান বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ঢাকা) মঈনুল ইসলাম টেলিফোনে জানান, ‘আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদন দেয়ার চেষ্টা করা হবে।’

দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও একটি ছোট কালভার্ড ও প্রায় দুইশ ফুট রেল লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে রেলওয়ে পুলিশ, শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রয়েছেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.