হামিদুর রহমান,মাধবপুর | ১১ নভেম্বর, ২০২০
আলালের জীবন স্বাভাবিকই ছিল। পেশায় ছিলেন দিনমজুর। যা আয় রোজগার করতেন তা দিয়েই স্ত্রী সন্তানসহ ৫ সদস্যের সংসার চালাতেন আলাল। কিন্তু গত ২ বছর ধরে অজ্ঞাত রোগে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। যার ফলে শিকলে বাঁধা পড়েছে তার জীবন। স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাধ্য হয়েই প্রিয়তম স্বামীর পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে রেখেছেন।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুরমা গ্রামের বাসিন্দা আলাল মিয়া। আলালের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, ১০ বছরের ছেলে আকাশ, ৯ বছরের ছেলে জীবন, ৩ বছরের কন্যা মিমকে নিয়ে তাদের ৫ জনের সংসার ভালই চলছিল। তার স্বামী পেশায় ছিলেন একজন দিনমজুর। কিন্তু গত ২ বছর ধরে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। চিকিৎসা করাতে দ্বারস্থ হন বিভিন্ন কবিরাজের কাছে। করোনা শুরুর আগে ডাক্তার দেখানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে তাকে আর ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয়নি।
এরই মধ্যে আলাল দিন দিন আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। মানুষকে দেখলেই সে হিংস্র হয়ে উঠে এব্ং মারধর করতে উদ্যত হয় এ কারণে বাধ্য হয়ে তাকে পায়ে শিকল বেঁধে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে বলে জানান আলালের স্ত্রী।
মনোয়ারা বেগম বলেন, ৩টি অবুঝ শিশু নিয়ে তার সংসার চালানো এবং অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ৩ শতক ভিটে বাড়ি একমাত্র সম্বল। পরের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে এখন কোন রকমে টিকে আছি। কিন্তু অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই টাকার অভাবে তার চিকিৎসা হচ্ছে না। বড় ছেলে আকাশ ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল অর্থাভাবে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য এলাকার অনেকের কাছেই সহায়তা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ সহায়তা করতে এগিয়ে আসেননি। এখন ৫ জনের সংসার এবং স্বামীর চিকিৎসা করা মনোয়ারার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ সুরমা গ্রামের প্রতিবেশী কলেজ ছাত্র ফুয়াদ আলম চৌধুরী জানান, আলাল মিয়া একজন সুস্থ স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম লোক ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ হয়ে পাগল হয়ে গেছেন। এ কারণে তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। এতে করে দিন দিন সে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন খান জানান, আলালের বিষয়টি খুবই মানবিক। সরকারের কাছে দাবি করছি তার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য বিভাগ এগিয়ে
আসবে।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়াক আল মামুন জানান, সে একজন মানসিক রোগী। দ্রুত তার চিকিৎসার প্রয়োজন। মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে তাকে চিকিৎসা দিলে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। শিকলে বেঁধে রাখায় তিনি আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। তার সাথে মানবিক আচরণ করতে হবে। আমরা বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করব।