সিলেট টুডে ডেস্ক | ৩১ জানুয়ারী, ২০১৫
সিলেটের বিয়ানীবাজারে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ছোঁড়া গুলিতে এক মাংস বিক্রেতা ও এক হোটেল মালিক নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও অন্তত ৬ জন। আহতদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিয়ানীবাজার উপজেলা সদরের দক্ষিণ বাজারে শ্রমিকলীগের সাথে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক জামাল হোসেনের অনুসারী নেতাকর্মীদের মাঝে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বিয়ানীবাজার উপজেলার কসবা গ্রামের সুবল মিয়ার ছেলে মাংস বিক্রেতা নিজু আহমদ (১৭) এবং মোল্লাপুর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে ও বিয়ানীবাজার উপজেলা শহরের দিবারাত্রি হোটেলের মালিক আবুল কালাম (৪০)।
গুলিবিদ্ধ অন্যরা হলেন- উপজেলা ট্রাক শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুয়াইবুল রহমান (৪০), শ্রমিক নেতা বিমল চন্দ্র (৩২), রিপন (২৯), তারেক (২৪), নূরুল হক (৫০) ও ফয়ছাল আহমদ।
বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, বিয়ানীবাজারের দক্ষিন বাজারে সিএনজি স্ট্যান্ডের পরিচালনায় আধিপত্য নিয়ে সাবেক ছাত্রলীগের আহবায়ক জামাল হোসেনের সাথে শ্রমিকলীগ নেতা জাবিদ আহমদের বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি জামাল হোসেন নিজেকে সভাপতি করে জেলা থেকে কমিটি নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে জাবির আহমদ কমিটি বাতিল করান। এ নিয়ে বিরোধ তুঙ্গে চলে যায়। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা আপোশের চেষ্ঠাও করা হয়। কিন্তুু তাতে কোন কাজ না হলে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরাা জানান, এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার রাতে দু’পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। বিষয়টি এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক জামাল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত গড়ালে খবর পেয়ে একদল পূলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এরই মধ্যে ছাত্রলীগের জামাল সমর্থিতরা ও শ্রমিকলীগের জাবিদ সমর্থিতরা মুখোমুখি অবস্থানে পৌছে সংঘষের্ জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজু আহমদ (১৬) নামক এক কিশোর মারা যায়। সে দক্ষিন বাজারের একটি হোটেলের কর্মচারী। নিহত রাজু পৌরসভার কসবা গ্রামের সুবল মিয়ার পুত্র। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ বিমল, সাবুল, রিপন, কালাম, ফয়ছল ও নুরুলকে সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা শ্রমিকলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানাগেছে।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিয়ানীবাজারে সিএনজি চালকেরা উত্তর বিয়ানীবাজারে ও ট্রাক চালকেরা দক্ষিন বিয়ানীবাজারে যানবাহন আটকিয়ে অবরোধ পালন করছে। এ ঘটনায় এক পক্ষ অপর পক্ষকে দায়ী করে বক্তব্য প্রদান করছে। এদিকে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করে বলেছেন, জামাল হোসেনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হোটেলে বসা শ্রমিকদের উপর নির্বিচারে হামলা ও গুলি চালিয়ে হোটেল শ্রমিক রাজুকে হত্যাসহ শ্রমিকদের আহত করে।
এ বিষরয় বিয়ানীবাজার থানার ওসি জুবের আহমদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন পরিস্থিতি বতর্মানে শান্ত রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত জামাল আহমদের ভাই শাহজাহানকে আটক করা হয়েছে। থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুুতি চলছে।