কমলগঞ্জ প্রতিনিধি | ২১ ডিসেম্বর, ২০২০
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে ১০০ কোটি ১৭ লাখ টাকার অধিক বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় হয়েছে। রেমিট্যান্স আয়ের অধিকাংশই শমশেরনগরের সোনালী ও পূবালী ব্যাংকের দুটি শাখার।
করোনাকালীন সময়ে এই আয় সরকারি প্রণোদনার কারণে হয়েছে বলে ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করেন। কমলগঞ্জের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যালয় থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
কমলগঞ্জের ভানুগাছ শাখা অগ্রণী ব্যাংক ব্যবস্থাপক হোসনে মোবারক জানান, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর ১১ মাসে এই শাখায় ৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কমলগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক নারায়ণ চন্দ্র রায় জানান, গত ১১ মাসে তার শাখায় ২ কোটি ১৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় আসে।
সোনালী ব্যাংক কমলগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল কাইয়ুম মাসুম জানান, গত ১১ মাসে তার শাখায় ৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় আসে।
পূবালী ব্যাংক কমলগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মো. মাসুম সিদ্দিকী জানান, গত ১১ মাসে তার শাখায় ৯ কোটি ৯০ লাখ ১৫ হাজার টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় আসে।
রুপালী ব্যাংক কেরামতনগর শাখার ব্যবস্থাপক পারভেজ আহমেদ জানান, গত ১১ মাসে এ শাখায় ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৯২ হাজার টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আসে।
সব মিলিয়ে গত ১১ মাসে কমলগঞ্জের ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে ১০০ কোটি ১৭ লাখ ৪১ হাজার টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় আসে। এর মধ্যে শমশেরনগর সোনালী ও পূবালী ব্যাংকে আসে সাড়ে ৬৮ কোটি টাকা। যা মোট হিসেবের অধিকাংশ আয়।
সোনালী ব্যাংক শমশেরনগর শাখা ব্যবস্থাপক রিপন মজুমদার জানান, গত জানুয়ারি মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত তার শাখায় ৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আসে। তার শাখার টার্গেট ছিল ৩৩ কোটি টাকা। তিনি টার্গেট অর্জন করেছেন। তবে বর্তমান ডিসেম্বর মাসের ২০ দিনে আরও ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার রেমিট্যান্স আয় হয়েছে।
পূবালী ব্যাংক শমশেরনগর শাখা ব্যবস্থাপক নুপুর বৈদ্য জানান, তার শাখার টার্গেট ছিল ৩৮ কোটি টাকা। তবে করোনার কারণে গত এপ্রিল থেকে কয়েক মাস সাপ্তাহিক ২ দিন করে এ শাখা বন্ধ ছিল। তারপরও জানুয়ারি থেকে গত নভেম্বর পর্যন্ত তার শাখায় ৩৪ কোটি টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় হয়েছে। চলমান ডিসেম্বরের ২০ দিনে আরো ২ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
আগামীতে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। এতে প্রবাসীরা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে উৎসাহ হারাবে।