সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প আগামী বছরের জানুয়ারিতে একনেকে পাস হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। দফায় দফায় বাড়িয়ে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ১৭ হাজার ১৬১ কোটি টাকায়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে আরেক দফায় বাড়ানো হয়েছে ব্যয়। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে জাপানিজ ইকোনমিক জোনের জন্য সংযোগ সড়কের সংস্থান করতে হচ্ছে। পাশাপাশি সেখানে একটা ইন্টারসেকশন তৈরির পরিকল্পনা হচ্ছে। এর বাইরে এডিবি প্রকল্পের পরামর্শক ব্যয়ের জন্য আরো কিছু টাকা ব্যয় করতে বলেছে। এসব অনুষঙ্গ যোগ হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় কমবেশি ৩০০ কোটি টাকার মতো বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা। আর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হতে পারে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
ঢাকার কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করবে সরকার। ২০১৭ সালে প্রকল্পটির জন্য প্রাথমিকভাবে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকে প্রথমে নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে প্রাক্কলন করা হয় ১০ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। চীনের অর্থায়ন থেকে সরে এসে পরে নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। তখন ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ১২ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। এরপর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে দফারফা করে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় নিয়ে যাওয়া হয় ১৭ হাজার ১৬১ কোটি টাকায়। এখন তা সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
শুরুতে প্রকল্পটি চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না হারবারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ১০ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয় ঠিক করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। তবে এর কিছুদিন পরই বেঁকে বসে চায়না হারবার। জি টু জি ভিত্তিতে তারা প্রকল্পের জন্য ১৬ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয় প্রস্তাব করে। একই সময়ে চায়না হারবারের বিরুদ্ধে মোটা অংকের ঘুষ দেয়ার অভিযোগ তোলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব। এসব কারণে চায়না হারবার ১০ হাজার ৩৭০ কোটি টাকায় মহাসড়কটি নির্মাণে রাজি হলেও সরকার তাদের সঙ্গ ত্যাগ করে। এরপর নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সরকার। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসে সরকার। অর্থায়নে যুক্ত করা হয় এডিবিকে।
এ সম্পর্কে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, সাউথ এশিয়া সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে (সার্ভিস লেনসহ) উন্নীত করা হবে। প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা)। এর বেশির ভাগ অর্থায়ন করবে এডিবি। ঢাকা-সিলেট ছয় লেন হলো এক্সপ্রেসওয়ে। ২০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কে আটটি ফ্লাইওভার, ২২টি ওভারপাস, পাঁচটি রেল ওভারপাস, ৬৯টি ব্রিজ, ১০টি আন্ডারপাস, তিনটি ইন্টারচেঞ্জ, ২৯টি ফুট ওভারব্রিজ রয়েছে। আর গতকাল সেতুমন্ত্রী আগামী বছরের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি একনেকে উঠে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন।
বিজ্ঞাপন
শুরুতে চীনের অর্থায়ন, পরে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন এবং শেষে এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এরই মধ্যে প্রায় চার বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। আর এ চার বছরে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে মহাসড়কটির নির্মাণ ব্যয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উইং) মনির হোসেন পাঠান বলেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রকল্পটি একনেকে উঠতে পারে। এজন্য আমরা আনুষঙ্গিক কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। তবে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় সম্পর্কিত কোনো তথ্য প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে বলা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র : বণিক বার্তা