তাহিরপুর প্রতিনিধি | ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০
২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টান সম্প্রদায়দের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ বড়দিন’। এ উপলক্ষে বিশেষ আলোকসজ্জা, ক্রিসমাস টি ও সান্তাক্লজ, তোরণ নির্মাণ করে জাঁকজমক ভাবে সাজানো, প্রথম প্রহরেই কীর্তন ও সঙ্গীতের মাধ্যমে উৎসবে মাতেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা।
তবে এবার করোনাভাইরাসের কারণে প্রতিবছরের চিরচেনা চিত্র পালটে গেছে। এ বছর সুনামগঞ্জে তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের খিস্টানপল্লীগুলোতে উৎসবের আমেজ নেই। উৎসবপর্বের আচারাদি কমিয়ে কেবল ঘরোয়া প্রার্থনা ও যিশুখ্রিস্টের জন্মদিনে অনাড়ম্বরভাবে কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করেছেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা ।
বিজ্ঞাপন
উপজেলার প্রায় ৬ শতাধিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি পরিবার খ্রিস্টান ধর্ম পালন করেন। জেলার ৬টি উপজেলায় এখনো বসবাস করে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক (আদিবাসী) জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ হাজার মানুষ। এর মধ্যে বেশির ভাগ খাসিয়াও রয়েছে। তারা খ্রিস্টান ধর্ম পালন করেন।
তারা গির্জাগুলোতে ২৫ ডিসেম্বর সকালে করোনামুক্তি ও দেশের উন্নতির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেছেন। সকালে খাবার পর্ব সবাই মিলে মিশে নির্ধারিত বাড়িতে ভোজগ্রহণ করেন। কিন্তু এ বছর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কমিয়ে আনা হয়েছে। রাতে কেবল ঘরোয়াভাবে কীর্তন পরিবেশন হবে এবং ২৫ ডিসেম্বর সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঘরোয়া আয়োজনে খানাপিনা হবে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন জানান,আমরা যুগযুগ ধরে শুধু উন্নয়ন-অবকাঠামো-সহায়তা থেকে আমরা বঞ্চিতই নয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নে অংশিদারিত্ব ও মতামত প্রদানের জন্য যে দাবি জানিয়ে আসছি তারও সুযোগ দেওয়া হয়না আমাদের।
বিজ্ঞাপন
করোনা মহামারির কারণে সারা বিশ্বের জীবনধারা এখন থমকে আছে। তাই আমাদের উৎসবও এবার কমিয়ে আনা হয়েছে বলে জানান,সিলেট প্রেসবিটারিয়ান সিনট এর সাধারণ সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলার বিশিষ্ট খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতা শঙ্কর মারাক। তিনি বলেন,আমরা ঘরোয়াভাবে উৎসব পালন ও করোনা মহামারি থেকে মানবজাতির মুক্তি কামনা করছি।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আহাদ বলেন, বড়দিন উপলক্ষে আমরা খিস্ট্রান সম্প্রদায়ের সকল নাগরিকদের শুভেচ্ছা জানাই। তারা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের আচারাদি পালন করতে পারেন আমরা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বলে দিয়েছি।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১১সালের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী জেলায় প্রায় ১হাজার ৪৬৪টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি পরিবার খ্রিস্টান ধর্ম পালন করেন। বর্তমানে সুনামগঞ্জের ৬ উপজেলার ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক (আদিবাসী) জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ হাজার মানুষ। এদের মধ্যে গারোদের সংখ্যাই বেশি। তাছাড়া কিছু খাসিয়াও রয়েছে। তারা খ্রিস্টান ধর্ম পালন করেন।