বিশ্বনাথ প্রতিনিধি | ২৭ ডিসেম্বর, ২০২০
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারি ইউনিয়নের পিটাকরা গ্রামের একটি নিরিহ পরিবারকে জামাত বিএনপির সন্ত্রাসীরা বাড়ি ঘর থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে। বিষয়টি থানা পুলিশ জেনেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে তাদের বাড়ি ছাড়া করতে সহযোগীতা করছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন রাগীব রাবেয়া কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইমরানা বেগম। তিনি পিটাকরা গ্রামের দিনমজুর আলকাছ আলীর মেয়ে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পিটাকরা গ্রামের জামাত-বিএনপির সন্ত্রাসীচক্র তাদের পূর্বপূরুষের জায়গা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে। এনিয়ে প্রতিপক্ষ আক্তার হোসেন পক্ষের সঙ্গে তাদের পারিবারিক বিরোধ চলছে। এঘটনায় প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের পরিবারের উপর হামলা করে তার চাচা মাদ্রাসা শিক্ষক ইলিয়াস হুমাইদিকে গুরুতর আহত করা হয়। এঘটনায় ২০১৯ সালের ১অক্টোবর বিশ্বনাথ থানায় জিডি করতে গেলে তার চাচা হুমাইদিকে থানা থেকে বের করে দেয় পুলিশ। এরপর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরও জিডি না নেওয়ায় তার চাচা ৯৯৯নম্বরে অভিযোগ দিলে ২৯ অক্টোবর ১৬২৮ নং জিডি এন্ট্রি নেয় থানা পুলিশ।
এরপর গত ২৬ মার্চ তার বাবা আলকাছ আলী ও চাচা হুমাইদিকে হত্যার উদ্যেশ্যে হামলা করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। এতে তার চাচা হুমাইদির মাথায় গুরুতর জখম হলে ১৮টি সেলাই থাকাসত্বেয় মামরা নেয়নি পুলিশ। অথচ, এরই মধ্যে প্রতিপক্ষের পক্ষ নিয়ে তার বাপ-চাচাদের বিরুদ্ধে ৩টি মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর গ্রামের শিবির কর্মী আব্দুল আলী তার ‘আব্দুল আলী’ নামে ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তি করে। গত ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর গ্রামের মাহমদ আলী নামের অপর জামাত নেতা তার ফেসবুক আইডি থেকেও নানা কটুক্তি করে।
ওই তরুণীর অভিযোগ, এ বিষয়ে তার চাচা হুমাইদি বিশ্বনাথ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে থানা পুলিশ কোন ব্যব্স্থা নেয়নি। উল্টো কটুক্তিকারীদের পক্ষ নিয়ে ওসি শামীম মুসা তাদেরকে বাড়ি ঘর থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছেন। ফলে তাদের দরিদ্র এ পরিবারটি দারুন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করা হলে মামলা না নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না জানিয়ে বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, ইলিয়াস হুমাইদি ও আক্তার হোসেনদের মধ্যে গ্রামের মাজার ও মাজারের জায়গা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এনিয়ে উভয় পক্ষে মামলা রয়েছে। কিন্তু শতভাগ পুলিশি সহযোগীতা পাওয়ার পরও ইলিয়াস হুমাইদি ভাতিজিকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ উত্তাপন করে সংবাদ সম্মেলন করিয়েছেন।