শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নের রায়পরাণ গ্রামে টিলা কেটে মাটি বিক্রয় করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৮-১০ গাড়ি মাটি ট্রাকে করে গ্রাম থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ আছে স্থানীয় সমুজ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে টিলা কেটে এই এখান থেকে বালু ও মাটি বিক্রয় করে আসছেন।
সোমবার সরেজমিনে মির্জাপুর ইউনিয়নের রায়পরাণ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টিলা কাটার ফলে টিলার নিচে একটি বড় গর্ত তৈরী হয়েছে। টিলার পাশে বালু ও মাটি স্থানান্তর এর জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি বস্তাও পাওয়া গেছে। রয়েছে ট্রাকের চাকার দাগ। টিলার একদিনের মাটি কাটার ফলে টিলা ভাঙ্গনের ঝুঁকিও তৈরী হয়েছে এখানে।
স্থানীরা জানান, সমুজ মিয়া নামের স্থানীয় এক ব্যাক্তি ট্রাকে করে প্রতিদিন ৮-১০ গাড়ি বালু ও মাটি এখান থেকে নিয়ে যান। প্রতিদিন ৭ – ৮ জন শ্রমিক এখানে মাটি কাটার কাজ করছেন। টিলা কাটা ব্যাক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের কিছু বলতেও পারছে না তারা।
এই অভিযোগে পরিপ্রেক্ষিতে কথা হয় সমুজ মিয়ার সাথে। মুঠোফোনে তিনি বলেন, যে সময় বালু নেওয়ার তখন নিয়েছি। এখন তো বন্ধ। কারোর বালু তোলার পারমিশন নাই। সবাই বালু তোলে। আপনাকে আধাঘন্টা পর ফোন দিচ্ছি বলে তিনি ফোন রেখে দেন।
এরকিছুক্ষণ পর সোহেল নামে একজন মুঠোফোনে বলেন, উনি সমুজ মিয়ার ভাগিনা, উনার মামা ঐ জায়গার পাহাড় কেটে বেশি মাটি নেন নি। সামান্য ৮-১০ গাড়ি মাটি তিনি নিয়েছেন। এই বিষয়ে সংবাদ না করার জন্য তিনি এই প্রতিবেদককে টাকা প্রদানের প্রস্তাব দেন।
এরপর রেনু নামের একজন সমুজ মিয়ার বন্ধু পরিচয় দিয়ে বলেন, সমুজ বালু তুলে অন্যায় করেছে। ভবিষ্যতে সে আর এরকম কাজ করবে না। আপনারা সংবাদটি প্রকাশ না করলে ভালো হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, মৌলভীবাজার জেলার ভূপ্রকৃতি রক্ষা করতে হলে পাহাড়-টিলা কাটা বন্ধ করতে হবে। পরিবেশ আইন লংঘন করে শ্রীমঙ্গল এলাকায় যেভাবে টিলা নিধন চলছে তা ভবিষ্যতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। টিলা নিধনের মাধ্যমে একদিকে সবুজায়ন কমছে, অন্যদিকে জলাধার ভরাট হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা বলেন, আমি শ্রীমঙ্গল রয়েছি। ঐ স্থানের লোকেশন নিয়ে সেখানে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।