জৈন্তাপুর প্রতিনিধি | ২৯ জানুয়ারী, ২০২১
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে উস্কানিমূলক কথা বলে বিতর্কের মুখে পড়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাহফিলে গিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। ফলে মাহফিলে যোগ দিতে না পেরেই ফিরে আসতে হচ্ছে।
এমন বিতর্কের মধ্যেই সিলেটে একটি ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতা করে গেছেন মামুনুল হক। বুধবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় জৈন্তাপুর উপজেলার জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম হেমু মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাহমুদুর রহমান।
জৈন্তাপুরে বক্তৃতা করতে গিয়েও অনেক আলেমদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন মামুনুল হক।
তিনি বলেন, আলেমরা তিন প্রকৃতির হয়ে গেছেন। কিছু আলেম সাহস নিয়ে ইসলামের কথা বলে নির্যাতিত আর জুলুমের শিকার হয়। তারা হলেন দ্বিনদার। আর কিছু আলেম সুবিধাবাদী ইসলাম ও শয়তানের পক্ষে কথা বলে তারা মুনাফিক। আরও কিছু আলেম আছে শুধু শয়তানের পক্ষে চাটুকারিতা করে তারাও মুনাফিক।
ওয়াজ মাহফিলগুলোতে আলেমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামুনুল হক বলেন, আজকাল আলেমরা আলেমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে বলেই ইসলামের শত্রুরা কথা বলার সাহস পেয়েছে। বর্তমানে মুসলিম জনপদে হারাম পণ্য বিক্রি হয়। আলেমরা জাতিকে সে ব্যাপারে সতর্ক না করে তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়, নবীর উত্তরাধিকারী বলে চিল্লায় আর বড় বড় উপাধি বলে পরিচয় দেন। কিছু আলেমরা মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কথা বলে না। হালাল আর হারাম নিয়ে কথা বলার সাহস পায় না। সুদ ও ঘুষের বিরুদ্ধে কথা বলে না কারণ আলেমের চাকুরি থাকবে না। বুঝতে হবে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাঠগড়ায় আলেমদের দাঁড়াতে হবে। আলেমরা দুনিয়ার কোন রাজা বাদশার আদেশে কাজ করলে হবে না, আলেমরা আল্লাহর দেয়া নির্দেশনায় কাজ করতে হবে। আলেম সমাজকে এখনি ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। না হলে আগামীতে ইসলামের অনেক বড় বিপর্যয় দেখা দেবে।
তিনি আরও বলেন, আলেমরা যতক্ষণ পর্যন্ত নিরাপদ আছো ততক্ষণ পর্যন্ত শক্ত মনে ইসলামের পক্ষে কথা বলে যেতে হবে। আর যদি আলেমরা ইসলামের পক্ষে কথা বা জিহাদ না করেন আল্লাহ নারাজ হবেন। কারো মুখের দিকে থাকিয়ে নয় কোরআনের অর্পিত দায়িত্ব মনে করে কথা বলে যেতে হবে সব সময়।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন হরিপুর বাজার মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস মাওলানা ইউসুফ আহমদ। আরও বয়ান পেশ করেন শায়খুল হাদিস হযরত মাওলানা রফিকুল হক (তুবাংগী হুজুর), শায়খুল হাদিস হযরত মাওলানা আহমদ আলী (চিল্লা), হযরত মাওলানা মুফতি মুস্তাকুন্নবী হাফিজাহুল্লাহ, হযরত মাওলানা মুফতি আমানুল হক, মাদ্রাসা সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ, হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান, হযরত মাওলানা ওলিউর রহমান, হরিপুর বাজার মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হিলাল আহমদ, দারুল উলুম হেমু মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি জিল্লুর রহমান প্রমুখ।