নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩০ জানুয়ারী, ২০২১
পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের নারীদের প্রেরণার উৎস। তার সাহসিকতা ও নেতৃত্বে আমরা পদ্মা সেতুর মত একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। তাই আমাদের উচিত শেখ হাসিনাকে সমর্থন করা, তার হাতকে শক্তিশালী করা।’
তিনি বলেন, ‘সিলেটের নারীদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস দেখে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। আশা করি এভাবে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে আমরা আমাদের এই প্রিয় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।’
মন্ত্রী শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মির্জাজাঙ্গালস্থ নির্ভানা ইন প্রাঙ্গণে দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্যোগে আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী “এসসিসিআই নারী উদ্যোক্তা সম্মেলন-২০২১” এর সমাপনি ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
সভায় সভপতিত্ব করেন সিলেট চেম্বারের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব। সভা সঞ্চালনা করেন সিলেট চেম্বারের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মিনতি দেবী।
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে সম্প্রসারণ ও ডাবল ট্র্যাক রেললাইন বাস্তবায়ন হবে অচিরেই। বর্তমান সরকার শুধু শহর নয় প্রত্যন্ত হাওড় অঞ্চলের উন্নয়নেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
‘‘তিনি নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে এরকম একটি প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সিলেট চেম্বার নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং সিলেট চেম্বারের জন্য বৃহৎ পরিসরে ভবন নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।’’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, সিলেটের নির্বাহী পরিচালক মো. খুরশীদ আলম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. খুরশীদ আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নারী উদ্যোক্তাদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করতে বর্তমান সরকার সিএসএমই খাতে বরাদ্দকৃত ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৫ শতাংশ নারীদের জন্য বরাদ্দ দিয়েছেন।’
এছাড়াও নারী উদ্যোক্তাদেরকে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানত বিহীন ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে তাদের সকল কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দিতে হবে।
‘‘তিনি নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সংক্রান্ত যেকোন সমস্যা সমাধানে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।’’
সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি চন্দন সাহা, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি ও এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক মো. হিজকিল গুলজার।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য নারী উদ্যোক্তাবৃন্দ এবং অনুষ্ঠানের স্পন্সর প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী স্টল মালিক ও নারী উদ্যোক্তাগণকে সনদপত্র প্রদান করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, ‘সিলেটের নারী উদ্যোক্তারা এখন আর পিছিয়ে নেই। পুরুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তারা দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করছেন।’
‘‘তিনি ৩ দিনব্যাপী সম্মেলনটি আয়োজনে ফ্রিতে মাঠ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সিলেট চেম্বারের সহ সভাপতি তাহমিন আহমদ, বিভিন্ন ব্যাংক এবং স্পন্সর প্রতিষ্ঠান সমূহকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।’’
‘‘তিনি সিলেটে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করণ, এয়ারপোর্ট-বাদাঘাট-তেমুখী বাইপাস সম্প্রসারণ কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।’’
এছাড়া সিলেট চেম্বারের জন্য বৃহৎ পরিসরে ভবন নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করায় পরিকল্পনা মন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানান।
সভায় সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সহ সভাপতি তাহমিন আহমদ, পরিচালক মো. মামুন কিবরিয়া সুমন, মাসুদ আহমদ চৌধুরী, পিন্টু চক্রবর্তী, আব্দুর রহমান, মো. আব্দুর রহমান (জামিল), আলীমুল এহছান চৌধুরী, ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী, মো. আমিনুজ্জামান জোয়াহির, ফখর উস সালেহীন নাহিয়ান, সাবেক প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সাবেক সহ সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক এজাজ আহমদ চৌধুরী, এনামুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটের ডাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন সাব কমিটির আহবায়ক সামিয়া বেগম চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক মধুমিতা ইসলাম ও হেলেন আহমদ, সাব কমিটির সদস্যবৃন্দ, সিলেট চেম্বারের সদস্যবৃন্দ, সরকারী-বেসরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যাংকার, সাংবাদিক ও নারী উদ্যোক্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।