সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, ক্যান্সর আক্রন্তদের মনোবল হারালে চলবে না। ক্যান্সার আক্রান্ত হলেই সব শেষ হয়ে গেছে এমনটি নয়। এখন ক্যান্সার চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় হয়। এর জন্য প্রথমে ক্যান্সার শনাক্ত করতে হবে। দ্রুত নির্ণয় ও সময় মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে ক্যান্সরকে হার মানানো যায়। বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি জেলায় ক্যান্সর হাসপাতাল করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় নর্থ ইষ্ট ক্যান্সার হাসপাতাল প্রাঙ্গনে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের ‘আই এম অ্যান্ড আই উইল’ অর্থাৎ আমি আছি, আমি থাকব’ প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে সভায় নর্থ ইষ্ট মেডিকেল প্রা. লি. এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আফজল মিয়ার সভাপতিত্বে ও প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাব্বির হোসেন এবং কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তনুশ্রী সরকারের যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নর্থ ইষ্ট মেডিকেল প্রা. লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, নর্থ ইষ্ট মেডিকেলের অধ্যক্ষ ডা. মো. মনোজ্জির আলী, অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. মো. মুখলেছ উদ্দিন, ইষ্ট মেডিকেল প্রা. লি. এর পরিচালক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম।
সভায় মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ক্যান্সরের জন্য সিগারেটকে ও তামাকজাত পণ্যকে প্রধান দায়ি করা হয়। এ জন্য সেগুলোকে বর্জনের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তিনি এসব বর্জন না করে উৎপাদন বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সিলেটের নর্থ ইষ্ট ক্যান্সর হাসপাতালে ক্যান্সার চিকিৎসায় উন্নতমানের চিকিৎসার মাধ্যমে অনেকে বর্তমানে সুষ্ঠু জীবন যাপন করছেন। তাঁরা হাসপাতালটিতে উন্নত ও সঠিক চিকিৎসা পেয়েছেন সে জন্যই তাঁরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরেছেন। হাসপাতালটিতে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মাতোই সার্জারির হচ্ছে। ভবিষ্যতেও হাসপাতালটিতে উন্নত মানের চিকিৎসা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, নর্থ ইষ্ট ক্যান্সার হাসপাতালে ক্যান্সার চিকিৎসায় উন্নত মানের অত্যাধুনিক যন্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি ব্রেইট টিউমার চিকিৎসার জন্য আরও একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সিলেটে ক্যান্সার চিকিৎসায় আরও ব্যাপক সেবা পাবেন। ক্যান্সার চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধিভূক্ত সংস্থা গ্লোবোক্যানের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। বছরে ক্যান্সারে মারা যায় ১ লাখ ৯ হাজার মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে দেশে যত মানুষ মারা যান তার ৬৭ শতাংশ মানুষ ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে। তাঁরা বলেন, জনসচেতনতার অভাবেই ক্যান্সার প্রকোপ বাড়ছে। সিলেটে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অর্ধেক রোগী মুখ ও গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত (হেড-নেক)। যার মূল কারণ তামাকজাত পণ্য সেবন। সুষ্ঠু ভাবে বেঁচে থাকতে হলে আমাদের এসব বর্জন করতে হবে।
আরও বক্তব্য দেন নর্থ ইষ্ট মেডিকেলের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মৃনাল কান্তি দাস, আইসিইউ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল জলিল বড় ভূইয়া, স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইলোরা, সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাজেদুর রহমান।
সভায় হাসপাতালে ক্যান্সার চিকিৎসা গ্রহীতাদের মধ্যে স্বাপ্না বেগম ও ফজলুর রহমান অভিজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মেডিকেলের অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ তৈমুর হোসেন তালুকদার। অনুষ্ঠানে তথ্য চিত্র উপস্থাপন করেন অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. দেবাশীষ পাটুয়ারী, ডেন্টাল ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এ আমে ইমরান হোসেন।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন মেডিকেল কলেজের খতিব ও ইমাম হাফেজ মৌলানা মো. মামুনুর রশিদ চৌধুরী।