নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় আরও দুই সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। বুধবার (১০ জানুয়ারি) সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল আমিন বিপ্লবের আদালতে একজন বিচারিক হাকিম ও একজন ব্যাংক কর্মকর্তা সাক্ষ্য প্রদান করেন।
বুধবার দুপুরে বিচারিক হাকিম আনোয়ারুল হক এই মামলার অন্যতম আসামি মান্নান ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী হা্কিম (ম্যাজিস্ট্রেট) হিসেবে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এছাড়া পুবালী ব্যাংকের জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা সিরাজুল হক চৌধুরী এই মামলার জব্দতালিকার সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য প্রদান করেন। তারা দুজন মামলার অভিযোগপত্রের ১৭ এবং ১৮ নম্বর সাক্ষী ছিলেন।
বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবকেক সভাপতি এমাদউল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন। তাকে সহায়তা করেন এডভোকেট মোহাম্মদ মনির উদ্দিন।
এডভোকেট মনির বলেন, আসামি মান্নার রাহীর সাক্ষ্য গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও জব্দ তালিকার সাক্ষী আজ সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
মনির জানান, অনন্ত বিজয় দাশের হত্যার পর তার বাসা থেরকে কম্পিউটারের সিপিইউ এবং কয়েকটি বই পুলিশ জব্দ করে। সেই জব্দতালিকার সাক্ষী ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা সিরাজুল হক চৌধুরী।
তিনি জানান, এই মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষী রয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচ বছরে মাত্র ১৬ জন সাক্ষ্য প্রদান করলেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল আমিন বিপ্লব ২৪ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।
এরআগে গত ১৯ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ থাকলেও সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে যায়।
দীর্ঘদিন সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলার পর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গতবছর মামলাটি সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। তবে করোনার কারণে গতবছর দীর্ঘদিন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ ছিলো।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১২ মে সকালে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারে নিজ বাসার সামনে খুন হন বিজ্ঞান লেখক ও গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনন্ত বিজয় দাশ। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হলে উগ্রবাদীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
সুবিদবাজারের রবীন্দ্র কুমার দাশ ও পীযূষ রানী দাশের দুই মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে অনন্ত ছিলেন সবার ছোট। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে মাস্টার্স করার পর সুনামগঞ্জের জাউয়াবাজারে পূবালী ব্যাংকের ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে যোগ দেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের দিনই অনন্তের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে এতে অভিযোগ করা হয়।
মামলাটি পুলিশ থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর হয়। সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী তদন্ত করে ২০১৭ সালের ৯ মে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সন্দেহভাজন আটক ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযুক্ত ৬ জন হলেন- সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবুল হোসেন (২৫), খালপাড় তালবাড়ির ফয়সাল আহমদ (২৭), সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বীরেন্দ্রনগরের (বাগলী) মামুনুর রশীদ (২৫), কানাইঘাটের পূর্ব ফালজুর গ্রামের মান্নান ইয়াইয়া ওরফে মান্নান রাহী ওরফে এবি মান্নান ইয়াইয়া ওরফে ইবনে মঈন (২৪), কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশীদ আহমদ (২৫) ও সিলেট নগরের রিকাবীবাজার এলাকায় বসবাসকারী সাফিউর রহমান ফারাবী ওরফে ফারাবী সাফিউর রহমান (৩০)।
এর মধ্যে আবুল, ফয়সাল ও হারুন পলাতক। ফারাবী ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলারও আসামি। অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে মান্নান রাহী আদালতে অনন্ত হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর মান্নান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।