সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৫ নভেম্বর, ২০১৫
'সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে এখনো যেন মধ্যযুগের সামন্তবাদ চলছে। হাওরবেষ্টিত এ দুর্গম জনপদে স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন সামন্তরাজ কায়েম করেছেন । অবিলম্বে তার লাগাম টেনে ধরা না হলে সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ।'
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সম্মুখে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত ডা. সন্তু পদ রায় (এস পি রায়)-এর প্রবাসী সন্তানদের জনহিতকর উদ্যোগে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদে আয়োজিত 'সংক্ষুব্ধ নাগরিকবন্ধন' কর্মসূচীতে একথা বলা হয়।
সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন, সিলেট-এর পক্ষ্য থেকে আয়োজিত এই নাগরিকবন্ধন কর্মসূচীতে সংগঠনের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম কর্মসূচী পালনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে জানান, গত ৩০ অক্টোবর ডা. এসপি রায় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মেধা বৃত্তি পুরস্কার, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত করা বিশাল মঞ্চ ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। স্থানীয় সাংসদ রতন-এর মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা এই হামলা করেছে বলে আয়োজকরা নিশ্চিত করেন। প্রয়াত ডা. সন্ত পদ রায় (এসপি রায়) ছিলেন মধ্যনগরে মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠক ও স্থানীয় একজন সমাজসেবী। তাঁর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দুই পুত্র সম্প্রতি পিতার স্মৃতি রক্ষায় ডা. এস পি রায় ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত ১৮ ও ২৮ অক্টোবর জামালগঞ্জ এবং মধ্যনগরে মেধা বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে এই মেধা বৃত্তি পরীক্ষা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
বৃত্তিপ্রাপ্তদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ছিল শুক্রবার বিকালে মধ্যনগর বাজারে। একই সাথে ছিল দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার আয়োজন। সিলেট থেকে প্রায় দশ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সন্ধ্যায় আয়োজন ছিল বিনোদন বঞ্চিত হাওরবাসী'র জন্য প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বারী সিদ্দিকী'সহ সিলেট সুনামগঞ্জের একাধিক শিল্পির পরিবেশনা।
এজন্য বৃহস্পতিবার বিকালেই মধ্যনগর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিশাল মঞ্চ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ্ উদ্দিন সিরাজ এবং প্রধান বক্তা করা হয় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে। ডা. সন্ত পদ রায় (এসপি রায়) ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শুভ রায় ব্যাক্তিগত সম্পর্কের কারনে অনেক পূর্বেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ্ উদ্দিন সিরাজ'কে প্রধান অতিথি করার বিষয়টি চূড়ান্ত করে রাখেন। কিন্তু সাংসদ রতন তা কোন ভাবেই মেনে না নিয়ে আয়োজকদের নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে আয়োজকরা অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে বৃত্তিপ্রাপ্তদের পুরস্কার বিতরণ করবেন জানিয়ে প্রধান অতিথি মিসবাহ্ উদ্দিন সিরাজ ও প্রধান বক্তা স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন-এর কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর ভাবে দেখার অনুরোধ করেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ্ উদ্দিন সিরাজ বিষয়টি মেনে নিলেও সাংসদ মেনে নিতে পারেননি। তিনি রাতের আঁধারে আয়োজকদের সকল প্রস্তুতি বিনষ্ট করে দেন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আয়োজকরা অত্যন্ত বেদনা নিয়ে নিজেদের অসহায়ত্ব তুলে ধরেন। একটি মহৎ উদ্যোগের পৃষ্টপোষকতার পরিবর্তে স্থানীয় সাংসদের এমন দুর্বিত্তপনা মধ্যনগরের সর্বস্তরের মানুষকে সংক্ষুব্ধ করেছে। এমন একটি ঘটনার সংবাদ জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত না হলেও সিলেট-সুনামগঞ্জ থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়া সংস্কৃতিকর্মী ও চিকিৎসকরা সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন, সিলেটের নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও এমন একটি ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ করা কর্তব্য মনে করে 'সংক্ষুব্ধ নাগরিকবন্ধন' আয়োজন করা হয়।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচীতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নাগরিকরা অংশগ্রহন করেন ।
নাগরিকবন্ধন কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন তথ্যচিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু, গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু, সুনামগঞ্জ সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক আলাউদ্দিন আহমেদ মুক্তা, জাসদ নেতা মাহমুদ আলী, মধ্যনগর থানা উন্নয়ন পরিষদের সাধারন সম্পাদক সাইদুল হাসান চৌধুরী খোকন, হাওর পাড়ের ধামাইলের সভাপতি সজলকান্তি সরকার, পরিবেশকর্মী মুজাহিদ হোসেন মুনিম, মেঠোসুর সম্পাদক বিমান তালুকদার, নাট্যকর্মী অরুপ বাউল, অরুপ রায় ও স্বপন বর্মণ, সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকার সাংবাদিক আকবর হোসেন, যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সভাপতি মবরুর আহমদ সাজু, সাধারন সম্পাদক সু বিনয় আচার্য, সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক সুপ্রজিত তালুকদার প্রমুখ।