নিউজ ডেস্ক | ০৭ নভেম্বর, ২০১৫
জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়েনের চান্দভরাং গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমন তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গত ৪ নভেম্বর চান্দভরাং গ্রামের মৃত ফখর উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মো. বেদার উদ্দিন চৌধুরী জন্টি সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। সেদিন তিনি আমার বিরুদ্ধে কুৎসা ও কাল্পনিক তথ্য উপস্থাপন করেছেন। গ্রামবাসীর ব্যানারে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন তার মাধ্যমে তিনি গ্রামবাসীকেই অপমান করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি তিনি ও তার অনুসারি গুটিকয়েকজনের বক্তব্য।
তিনি জানান, গ্রামবাসীর স্বার্থের কথা উল্লেখ করে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জায়গার অবৈধ দখলদার আবাব মিয়া, তোরণ মিয়া, আব্দুল মান্নান, ইউসুফ মিয়া, সোজা উদ্দিন ধলুর পক্ষে বেদার উদ্দিন চৌধুরী জন্টি অর্থের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাজ করছেন। তাদের অবৈধ দখলকে বহাল রাখার লক্ষ্যে বৈধ দখলকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন জন্টি।
তারা একদল মামলাবাজ ও ধূর্ত প্রকৃতির লোক দাবি করে আনোয়ার জানান, তাদের নানামুখি ষড়যন্ত্রে গ্রামের নিরীহ মানুষ মামলা মোকদ্দমায় লিপ্ত। এত সাধারণ মানুষ আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মামলার ফাঁদে ফেলে ভুক্তভোগিদের জিম্মি করে গ্রামে অবৈধ প্রভাব বিস্তার করছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘জন্টি তার বক্তব্যে যে ভূমি দখল হয়ে যাওয়ার কথা দাবি করেছেন এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এটা আমাদের নিজস্ব মালিকানাধীন ভূমি। কোন কালেই খেলার মাঠ ছিল না। এখানে আমাদের নির্মানাধীন বসতবাড়ি ও রোপনকৃত গাছপালা বিদ্যমান রয়েছে। ১৯৫৭ সালে এই জায়গাটির মূল মালিক স্বত্ত্ববান দখলকার হরেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী গংরা আমার পিতা মরহুম আয়াত উল্লাহ’র নিকট ভূমিটি বিক্রি করেন। আজ অবধি আমার মরহুম পিতা ও পরবর্তীতে উত্তরাধিকার সূত্রে আমি এই জায়গাটি প্রকৃত মালিক। সকল প্রকার সরকারি কাগজাদি ও দলিলাদিতেও জায়গাটির প্রকৃত মালিক আমার পিতা আয়াত উদ্দিন।’
তিনি বলেন, ‘জন্টি তার বক্তব্যের শেষাংশে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন তার অভিযোগ মোতাবেক প্রশাসন ব্যবস্থা না দিলে তারাই আমাদের উচ্ছেদ করবেন। তখন হয়তো কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তার এ ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যই জানান দেয় উনার হিংস্র মনোভাবের। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় জন্টি ও তার অনুসারীরা যেকোনো সময় আমাদের উপর সশস্ত্র হামলা চালাতে পারেন। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- চান্দভরাং গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান, মনতাজ আলী, সামস উদ্দিন, আরফান আলী, জুহুর আলী, দুলাই মিয়া, ইসহাক আলী, কদর আলী, সুরুক আলী, নুর ইসলাম, হুশিয়ার আলী, শামীম আহমদ, মাসুক মিয়া, এলন মিয়া, পাবেল সামাদ, সাহেল সামাদ, শাকিল সামাদ, আশরাফ আলী প্রমুখ।