Sylhet Today 24 PRINT

কান্না থামিয়ে মা বললেন ‘খুশি’, বাবার দাবি দ্রুত রায় কার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৮ নভেম্বর, ২০১৫

রোববার সকালেই স্বামী সন্তানের সাথে আদালতে এসেছিলেন শিশু সামিউল আলম রাজনের মা লুবনা আক্তার। মিডিয়ার জ্বালাতন, উৎসুক জতনার উঁকিঝুঁকি আর উপচে পড়া ভিড় সহ্য করেই ঠাঁয় দাড়িয়েছিলেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বারান্দায়।

রায় ঘোষণার পর আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না লুবনা আক্তার। বারান্দায় বসে পড়ে কান্না জুড়ে দিলেন তিনি। রাজনের নাম ধরে বিলাপ করতে লাগলেন সন্তান হারানো এই মা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠেই জানালেন, এই রায়ে আমি খুশি। আমার ছেলের আত্মা কিছুটা শান্তি পাবে।

রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান তখন মস্ত ব্যস্ত। মিডিয়ার টানাহেছড়া। লাইভ। আর কতো কী!

শেখ আজিজুর রহমান বলেন, রায়ে আমি সন্তুষ্ট। দ্রুতত সময়ে এই বিচার কাজ শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ। আমি চাই এই রায় যেনো দ্রুত কার্যকর হয়।

রোববার দুপুরে চাঞ্চলক্যর এই মামলার রায়ে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ চার জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। রায়ে মামলার ১৩ আসামির মধ্যে খালাস পেয়েছেন তিন জন। কামরুলের তিন ভাইয়ের হয়েছে সাত বছর করে কারাদণ্ড। বাকিদের মধ্যে এক জনের যাবজ্জীবন এবং দুই জনের এক বছর কারাদণ্ড হয়েছে।

রায়ে এক বছর করে কারাদণ্ড হওয়া দুইজনকে এক হাজার টাকা করে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদয়ে তাদেরকে আরও ২ মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

গত ৮ জুলাইয়ের ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরুর পর মাত্র ১৭ কার্যদিবসে ঘোষিত হলো দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যা মামলার রায়। গত ২২ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল মামলার বিচার।

রায় উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় রাজনের খুনিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন হাজারো মানুষ। আসামিকে লক্ষ করে তাদের অনেকে জুতাও নিক্ষেপ করেন।

বেলা সোয়া ১টার দিকে রায় দেন বিচারক।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আদালতের পিপি মফুর আলী জানান, প্রত্যাশিত রায়ই হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ রায় ঘোষণা বিচার বিভাগের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে দেশে শিশু নির্যাতন কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, পূণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। এসময় উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.