নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ এপ্রিল, ২০২১
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে অবেধভাবে পাথর উত্তোলনকালে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হলেও এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
লকডাউন চলাকালে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভোলাগঞ্জের রেলওয়ের রজ্জুপথের (রোপওয়ে) সংরক্ষিত এলাকার পাথর লুটপাট করছিলো একটি পাথরখেকোগোষ্টি। অবৈধভাবে পাথর তুলতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যান জহির আলম (২০) নামের এক শ্রমিক।
এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রাসেল মিয়া (৩২), শাহাবুদ্দিন (৩৫) ও যুবলীগ নেতা কেফায়েত উল্লাসহ (২৮) অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন নিহত শ্রমিকের মা রিনা বেগম।
তবে মামলা দায়েরের দুদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম নজরুল জানান, মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির ধলাই নদ হয়ে একদল পাথরশ্রমিকের সঙ্গে জহির রজ্জুপথের সংরক্ষিত এলাকায় (বাংকার) প্রবেশ করেন। সেখান থেকে পাথর উত্তোলন করে নৌকায় করে নিয়ে যাওয়ার পথে ঝড়ে পাথরবাহী নৌকা ডুবে যায়। সকাল ১০টার দিকে জহিরের লাশ উদ্ধার করে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন তার সহযোগীরা। খবর পেয়ে ভোলাগঞ্জ ফাঁড়ির বিজিবি সদস্যরা লাশ উদ্ধার করেন। বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পাথর পরিবহনে স্থল কিংবা জলযানের বিকল্প হিসেবে ভোলাগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জের ছাতকে রজ্জুপথ স্থাপন হয় ১৯৬৪ সালে। এ রজ্জুপথে ১১৯টি খুঁটি রয়েছে। ভোলাগঞ্জ রজ্জুপথের সংরক্ষিত এলাকার লোডিং স্টেশনকে ‘বাংকার’ বলে ডাকা হয়। প্রায় ৩৫৯ একর আয়াতনের ওই এলাকা ধলাই নদ ও ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির পাশে হওয়ায় সেখান থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছে একটি চক্র।
এলাকাবাসী জানান, লকডাউন ঘোষণার পর থেকে একটি চক্র রাতের বেলা রজ্জুপথের সংরক্ষিত এলাকা খোড়াখুঁড়ি করে পাথর তুলছিল। জহির সেই চক্রের মাধ্যমে মজুরির ভিত্তিতে পাথর উত্তোলনের কাজ করতে গিয়ে মারা গেছেন। তাকে পাথর উত্তোলনের কাজে নিযুক্ত করেছিলেন শাহাব উদ্দিন, কেফায়েত উল্লাহ ও রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে একটি চক্র। প্রতিদিন রাতে রজ্জুপথ এলাকায় নৌকাপ্রতি ২০ হাজার টাকা অগ্রিম আদায় করে চক্রটি পাথর উত্তোলনের ব্যবস্থা করে দেয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবীদ সমিতি (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আক্তার বলেন, প্রশাসন থেকে বারবার বলা হয় পাথর উত্তোলন বন্ধ। কিন্তু কয়েক দিন পর পর শ্রমিকদের মৃত্যুর মধ্যদিয়ে এটাই প্রমাণ হয় যে, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন থেমে নেই। পাথর শ্রমিক জহিরের মৃত্যুই তার প্রমাণ।