মোসাইদ রাহাত, সুনামগঞ্জ | ২৪ এপ্রিল, ২০২১
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন ও এডিস দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকি অভিযোগে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের পর আলোচনায় আসেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সুহেল মিয়া। তিনি নিজেকে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক দাবি করেছেন। তবে ছাত্রলীগ নেতাদের দাবি, সুহেল ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলেন না। প্রতারণামূলকভাবে পদবী ব্যবহার করছেন।
তবে অভিযুক্ত সুহেল ছাত্রলীগের কর্মী বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।
সুনামগঞ্জে ২০১০ সালে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল ফজলে রাব্বি স্মরণকে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় রফিক আহমেদ চৌধুরীকে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ১২১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয় সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের।
ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, কমিটির পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পরই কমিটিতে সহ-সম্পাদকের পদ পাওয়া সোহেল নামে একজনকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। সোহেল নামের একাধিক ব্যক্তি নিজেকে এই পদধারী বলে দাবি করেন। তবে ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফজলে রাব্বী স্মরণ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে লেখা সুহেল নামটিকে সুহেল রানার বলে জানান।
ছাত্রলীগ নেতারা জানান, এই বিতর্কের নামের ফায়দা লুটেন দিরাইয়ে স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন ও এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকিদাতা সোহেল রানা। তিনি ছাত্রলীগের দিরাই সরকারি কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক পদ ব্যবহার করলেও ২০০৯ সালের পর কোন কলেজ কমিটিই অনুমোদন হয়নি।
এ ব্যপারে ছাত্রলীগ নেতা শাহ জুনায়েদ আহমেদ সৃজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, দিরাইয়ের ন্যাক্কারজনক একটা ঘটনার কথা জানতে পারলাম। একজন স্কুল ছাত্রীকে দুইজন বখাটে উত্যক্ত করেছে, এমনকি এসিড মারার হুমকিও দিয়েছে। বিষয়টি খুবই ন্যাক্কারজনক। আমরা সকলে এর প্রতিবাদ জানাই এবং দায়ীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানাই। তবে খুবই দুঃখের সাথে জানানো যাচ্ছে যে অনেকগুলো গণমাধ্যমে সোহেল নামের বখাটেকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু উল্লেখ্য, স্মরণ-রফিক ভাই কমিটিতে যে সোহেলের নাম এসেছে আসরা সেটি বর্তমান সিলেট মহানগর শ্রমিক লীগ নেতা সোহেল ভাই জানতাম, পরবর্তিতে বিতর্কের সৃষ্টি হলে সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফজলে রাব্বী স্মরণ ভাই জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সোহেল রানাকে সেই সহসম্পাদক নিশ্চিত করেন। ফলে দিরাইয়ের বখাটে সোহেল অতীতে কোনো জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে ছিলোনা এবং বর্তমানেও নেই। তাকে জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বলে উল্লেখ না করার জন্য আমার গণমাধ্যমের সহকর্মীদের বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।
এ ব্যপারে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, সোহেল মিয়া নামে আমাদের কমিটিতে কেউ ছিল না আমি তাকে চিনি না। তবে বর্তমান সিলেট মহানগর শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুহেল ভাই ও সাবেক নেতা সুহেল রানাকে নিয়ে একটা বিতর্ক সৃষ্টি হয় তবে যে সোহেল মিয়া কথা বলা হচ্ছে সে আমাদের কমিটির কেউ না।
সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফজলে রাব্বী স্মরণ বলেন, সোহেল নাম নিয়ে কিছুটা বিতর্ক হয়েছিল একজন আমার বন্ধু সুহেল আরেকজন আমার ছোটভাই সুহেল। তবে বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে। এখানে কোন সুহেল মিয়া নামে ছিল না। কমিটিটা ২০১০ সালের এবং পূর্ণাঙ্গ ২০১৪ সালে ওই সময় তার বয়সটাই কি ছিল এবং দিরাই সরকারি কলেজে ২০০৯ সালের পর কোন কমিটিই দেওয়া হয়নি তাহলে সে কিভাবে বলে সহ-সম্পাদক।
তবে বর্তমান সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি দিপঙ্কর কান্তি দে বলেন, সোহেল মিয়াকে চিনি। সে ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় সদস্য। তবে কোনো পদে নেই।