Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটে চলছে তাপদাহ, বেড়েছে ফ্যানের কদর

শাকিলা ববি |  ২৮ এপ্রিল, ২০২১

বুধবার ভোর ৬টা। আকাশে মেঘ, সামান্য বাতাস আর ২মিনিটের কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের বৃষ্টি এখানেই শেষ। এরপর সারাদিন শুধু সূর্যের চোখ রাঙানি। শরীর জ্বালানো এই তাপের হাত থেকে রেহাই মিলছে না কারও।

গত কয়েকদিনের গরমে অতিষ্ঠ মানুষজন যখন এক ফোটা বৃষ্টির অপেক্ষায়। তখন সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয় বুধবার ভোরে হবে বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিসের সেই পূর্বাভাসে যেন গুড়ে বালি। তবে আবহাওয়া অফিস আগেই জানিয়েছিল এই বৃষ্টিতে তাপমাত্রায় তেমন কোনো হের ফের হবে না।

বৈশাখ মাসের ১৫ তারিখ চলছে, তবুও সিলেটের আকাশে মেঘের দেখা নেই। কোথাও নেই কোনো বাতাস। সকালে সূর্য উঠার পর বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে রোদের তীব্রতা। গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ। গত কয়েকদিন যাবত সূর্যের তেজ যেন অগ্নি রূপে ঝরছে। সূর্য ডোবার পরও তাপমাত্রা কমছে না। তবে এই গরমে কিছুটা আশার বানী শুনিয়েছে সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সিলেট আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ জানান, আরও দুদিন থাকবে এই গরমের তীব্রতা। তবে ১লা মে থেকে টানা ৫দিন সিলেটে প্রচুর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার (২৮ এপ্রিল) সারাদিন গরমে প্রাণীকুল ছিল ওষ্ঠাগত। একদিকে লকডাউনে কাজ করা। অন্যদিকে গরমের তীব্রতা। তারপরও জীবন জীবিকার তাগিদে ঘরে বসে ছিলেন না খেটে খাওয়া মানুষজন। এই অসহ্য গরম সহ্য করে সিয়াম সাধনায় মত্ত ছিলেন রোজাদাররাও।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট অফিস থেকে জানানো হয়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আজ বুধবার তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সিলেট আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ বলেন, চলমান বৈশাখ মাসে বৃষ্টি না থাকার কারণে সিলেটজুড়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে এটা স্বাভাবিক তাপমাত্রা। চলমান এ তাপপ্রবাহ আর ২দিন অব্যাহত থাকবে। তবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এদিকে এই তীব্র গরমে বাজারে চাহিদা বেড়েছে ফ্যানের। সিলেট নগরীর ইলেকট্রনিকসের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি বলে দিচ্ছে এই গরমে ফ্যানের কদর। গত দুদিনে সিলেটের ইলেকট্রনিকসের দোকানগুলোতে বেশি বিক্রি হয়েছে সিলিং ফ্যান, টেবিল ফ্যান, রিচার্জেবল ফ্যান, এয়ারকন্ডিশনার, এয়ারকুলার। নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা এলাকার ইলেকট্রনিকসের দোকানগুলো থেকে ফ্যান কিনে বেরুতে দেখা যায় অনেক ক্রেতাকে।

মিয়া ফাজিলচিস্ত এলাকার জনতা ইলেকট্রনিকসের পরিচালক আমির হামজা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ফ্যান বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। টেবিল ফ্যান, রিচার্জেবল ফ্যান ক্রেতারা বেশি কিনছেন।

বন্দরবাজারের একটি ইলেকট্রনিকসের দোকান থেকে ফ্যান কিনে বের হয়েছেন নগরীর কানিশাইল এলাকার তানভির আহমেন। তিনি বলেন, ঘরে সবার রুমেই সিলিং ফ্যান আছে। কিন্তু কয়েকদিন যাবত সিলিং ফ্যানে এই গরম মানছে না। একদিকে গরম এদিকে রোজা। তাই পরিবারের সবার প্রশান্তির জন্য একটি বড় স্ট্যান্ড ফ্যান কিনলাম।

আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ বলেন, সিলেটের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২০১৪ সালের মে মাসে। ওই দিন ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ওই তাপমাত্রা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল কারণ সাধারণ তাপমাত্রার মধ্যে হঠাৎ একদিন তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায়। কিন্তু সম্প্রতি সিলেটে একটি লেভেলের তাপমাত্রা বিরাজ করছে। যেমন সোমবার সিলেটে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। মঙ্গলবার ছিল তাপমাত্রা ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ ছিল ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।এই ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা গত তিন-চারদিন থেকে বিরাজ করছে। তবে মে মাসের শুরু থেকে সিলেটে প্রচুর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তখন তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কিছুটা কমতে শুরু করবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.