Sylhet Today 24 PRINT

খাবার খুঁজতে গিয়ে বিষটোপে মরছে পরিযায়ী পাখি

মৌলভীবাজারের জুড়ী

বেলাল হোসাইন, জুড়ী |  ০৯ মে, ২০২১

বিষটোপ খেয়ে অচেতন অবস্থায় পড়েছিল চিলটি। খবর পেয়ে পরিবেশকর্মীরা উদ্ধার করে প্রাথমিক শুশ্রুষা দিয়ে অবমুক্ত করেছে।

হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন বিলের পানি শুকিয়ে গেছে। এতে খাবার সংকটে পড়েছে পরিযায়ী পাখিরা। সম্প্রতি খাবারের সন্ধানে মৌলভীবাজারের জুড়ী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন একটি মৎস্য খামারে সমাগম ঘটে পরিযায়ী পাখির।  

এই সুযোগে সেখানকার মৎস্য খামারিরা প্রায়ই বিষটোপ ও ফাঁদ দিয়ে পাখি নিধন করছেন। পাখি নিধনের এ খবরে শনিবার সন্ধ্যায় সেখানে যায় ‘সেইভ এনিম্যালস সেইভ এনভায়রনমেন্ট’ নামের একটি পরিবেশবাদী সংগঠন।

তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাখি নিধনের বিষয়ে খামারিদের কাছে আপত্তি জানায়। এসময় সেখান থেকে অচেতন অবস্থায় একটা চিল উদ্ধার করে সংগঠনের কর্মীরা। পরে উদ্ধার করা চিলের প্রাথমিক শুশ্রুষা করে অবমুক্ত করা হয়।

এসময় সংগঠনের খালেদুর রহমান সৈকত, সুমিত চন্দ্র চন্দ, দেবপ্রিয় দত্ত, সৌরভ সূত্রধর, এস সাহল আব্দুল্লাহ, মামুন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খামারের পাহারাদার জানান, গৌরাঙ্গ হাওরের পানি না থাকায় পানকৌড়ি পাখি এবং চিল পাখি দলে দলে তাদের মৎস্য খামারে এসে মাছ শিকার করে। তাই তারা ‘পটাস (বিষ)’ মাছের ভেতরে দিয়ে দেন। সেই মাছ পাখি খেয়ে মারা যায়।

ওই খামারের মালিক বলেন, ‘পাহারাদার পাখি সামলাতে পারছেন না। পাখিকে দমিয়ে রাখতে না পারায়, তিনি বাধ্য হয়ে ‘পটাশ (বিষ)’ দেন।’

পরিবেশকর্মী খোরশেদ আলম জানান, প্রায় ১০টির মতো পানকৌড়ি ও ৪টি চিল বিষটোপে মারা যাওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। ১টি অচেতন অবস্থায় পেয়ে প্রাথমিক শুশ্রুষা দিয়ে অবমুক্ত করেছি। আমরা খাবারের মালিকের সাথে কথা বলেছি। বন্যপ্রাণী আইন সম্পর্কে তাকে অবহিত করেছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন বিষটোপে পাখি আর মারবেন না। এছাড়া পাখি রক্ষায় পাহারার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগেরও আশ্বাস দেন।


টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.