কমলগঞ্জ প্রতিনিধি | ০২ জুন, ২০২১
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা বাগানের টিলা থেকে কাঁচা চা পাতা চুরি করে নেয়ার সংবাদ দেয়ায় বহিরাগত চা পাতা চোর চক্রের সশস্ত্র হামলায় ৩ চা শ্রমিক আহত হন। হামলাকারীরা শ্রমিকের বাড়িঘরে ভাঙচুর করে গবাদি পশু লুটপাট করে। উত্তেজিত শ্রমিকরা বাগানের বাবু ও সহকারী ব্যবস্থাপককে না পেয়ে বাংলোর সামনে ফুলের টব ভাঙচুরের ঘটনায় নির্যাতিত শ্রমিকদের উপর চা বাগান কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনার পর ৪ চা শ্রমিককে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করেছে বাগান কর্তৃপক্ষ।
গত ২৮ মে দিবাগত রাত ১০ টায় উপজেলার সুনছড়া চা বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এবিষয়ে সম্প্রতি একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।
সুনছড়া চা বাগানের নির্যাতিত শ্রমিক স্বপন নায়েক, হরিনারায়ণ হাজরা ও মিলন নায়েক অভিযোগ করে বলেন, চা পাতা চুরির সংবাদ জানানোর পর টিলাবাবুর নির্দেশে সশস্ত্র চোর চক্র আমাদের দু’দফা পিটিয়ে জখম করে ঘরের গরু-ছাগল, দোকানের টাকা, দানবাক্স লুট করে। এ ঘটনায় বাগানের ব্যবস্থাপক চোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে আমাদের উপর সহ-ব্যবস্থাপককে দিয়ে উল্টো মামলা দিয়েছেন। এখন আবার চা বাগান ব্যবস্থাপক সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাদের চাকুরী থেকে বরখাস্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, ডানকান ব্রাদার্স আলীনগর এর ফাঁড়ি সুনছড়া চা বাগানের ১০ নম্বর সেকশনে ঢুকে বস্তির একটি সশস্ত্র চক্র কাঁচা চা পাতা চুরি করে নেয়। পাতা চুরি দেখে বাগানের শ্রমিক স্বপন নায়েক ও হরিনারায়ণ হাজরা টিলাক্লার্ক গোপাল চক্রবর্তীকে জানান। গোপাল চক্রবর্তী চা পাতা চোরদের কাছে তথ্য প্রদানকারী শ্রমিকদের নাম প্রকাশ করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মঈনুল আহমেদ এর নেতৃত্বে চা পাতা চোর চক্র একইদিন রাতে সুনছড়া বাজারে চা শ্রমিক স্বপন নায়েক ও হরিনারায়ণ হাজরাকে মারধোর করে বেঁধে রাখে। সংবাদ পেয়ে ক্ষুব্ধ দু’শতাধিক শ্রমিক ঘটনা জানতে চেয়ে টিলা ক্লার্কের বাসায় গিয়ে তাকে না পেয়ে সহকারী ব্যবস্থাপকের বাংলোয় যান। সেখানেও ব্যবস্থাপক বাসা থেকে বের না হওয়ায় বাংলোর সামনে উত্তেজিত শ্রমিকরা ফুলের টব ভাঙচুর করে।
একই রাতে দ্বিতীয় দফা চিতলীয়া গ্রামের চা পাতা চোর চক্র শ্রমিকের বাড়িতে গিয়ে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে স্বপন নায়েক (২৮), হরিনারায়ণ হাজরাকে (৩০) কুপিয়ে জখম ও কানাইলাল হাজরাকে (২৫) আহত করে তাদের ঘর থেকে ৭টি গরু, ৫টি ছাগল, দোকানের ক্যাশ থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা, একটি দানবাক্স লুটে নেয়। এই অভিযোগে ৩১ মে চা বাগানের টিলাক্লার্ক গোপাল চক্রবর্তীসহ বস্তির হামলাকারীদের আসামি করে বাগানের নারী চা শ্রমিক রাজকুমারী হাজরা কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
এর আগে গত ২৯ মে চা বাগানের সহ-ব্যবস্থাপক ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে বাংলোর সামনে ফুলের টব ভাঙচুরের ঘটনায় হরিনারায়নসহ ৭জনকে আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এদিকে ২৯ মে বাগান ব্যবস্থাপকের স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত অভিযোগপত্র দিয়ে হরিনারায়ণ হাজরা, মিলন নায়েক, রাজকুমার ভুঁইয়া ও স্বপন নায়েককে লিখিত অভিযোগপত্র প্রদান করে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে আলীনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক হাবিব আহমদ চৌধুরী জানান, শ্রমিকদের অভিযোগের সংবাদ পেয়ে আমাদের স্টাফরা সেকশনে গিয়ে চা পাতা চুরি করতে কাউকে পায়নি। শ্রমিকরা আমাকে অভিযোগ দিলে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম। তারা তা না করে সহ-ব্যবস্থাপকের বাংলোর সামনে ভাঙচুর করেছে। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও শ্রম আইন অনুযায়ী ৩ জন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।