তপন কুমার দাস | ০৪ জুন, ২০২১
বুধবার দুপুর আড়াইটা। বনাখলাপুঞ্জিতে প্রবেশের পর চোখে পড়ল সুনশান নীরবতা। সব সময় কর্মব্যস্ত থাকা এই পুঞ্জির নারী-পুরুষ সবার চোখেমুখে এখন উদ্বেগ আর আতঙ্ক। তাদের কেউ ঘরে, কেউ বারান্দায় বসে আছেন। অন্যদিনগুলোর মতো জুমে কাজ করতে ও পান সংগ্রহে যেতে পারছেন না তারা।
গত ২৮ মে (শুক্রবার) পুঞ্জির কয়েকটি জুম বহিরাগত সন্ত্রাসীরা দখলে নেওয়ার পর থেকেই এ অবস্থা চলছে।
ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দখলমুক্ত না হওয়ায় ভয়ে পুঞ্জির লোকজন তাদের জুমে যেতে পারেননি। এতে বাড়ছে উদ্বেগ আর আতঙ্ক। জুম থেকে পান তুলতে না পেরে তারা কষ্টে আছেন।
বনাখলাপুঞ্জিটি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের ছোটলেখা চা-বাগানের আওতাধীন। একই চা-বাগানের আওতাধীন আগারপুঞ্জি নামের আরেকটি পুঞ্জিতে গত ২৯ মে (শনিবার) দিবাগত রাতের কোনো একসময় সহস্ত্রাধিক পানগাছ কেটে ফেলেছে অজ্ঞাত পরিচয়ের দুর্বৃত্তরা।
পুঞ্জির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, খাসিয়াপুঞ্জিতে পানজুম কেটে দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ছোটলেখা চা বাগানে খাসিয়াদের আগারপুঞ্জিতে ২০০ পান গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে একই চা বাগানের নালিখাইপুঞ্জিতে তাদের জুম এবং বসতঘর পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ২০১৫ বা ২০১৯ সালেই প্রথম নয়, এই চা বাগানের অন্য পুঞ্জিগুলোতেও তাদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে বারবার।
বিভিন্ন সময় পুঞ্জিগুলোর জুম থেকে পান, সুপারি চুরি ও পানগাছ কেটে দেওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। কিছু ঘটনা প্রকাশ পায়। তবে বেশিরভাগ ঘটনা প্রকাশ পায় না। পান চাষ লাভজনক হওয়ায় সেখানকার খাসিয়া (খাসি) সম্প্রদায়ের পানচাষিদের সরিয়ে সেই চাষের জমি দখল নিতে চাচ্ছে স্থানীয় বাঙালিদের কেউ কেউ।
অন্যদিকে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনাগুলো বারবার সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিমত আদিবাসী নেতাদের।
বনাখলাপুঞ্জিতে কথা হয় মান্ত্রীর (পুঞ্জি প্রধান) সহকারী বিকম আমত্রার সাথে। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমরার লোকজন জুমে কাজ করতে গেছে। তখন বোবারথল এলাকার আব্দুল বাছিত, আমির, লেছই মিয়ার নেতৃত্বে লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র, জাটা, বল্লম নিয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জায়গা দখল করছে। এরমধ্যে জুম আছে ২৫ থেকে ৩০ একর। তারা দখল করে আমাদের লোকজনকে তাড়িয়ে দিয়েছে। টিনের ঘরও তৈরি করেছে। প্রথমে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। পরে বলছে ১০ লাখ দিলে জুম ছেড়ে দেবে। না হলে জুমে যেতে দেবে না। পরে ভয়ে আমাদের লোকজন চলে আসে।
তিনি বলেন, আমরা নিরীহ মানুষ, কি করব। মারামারি করতে পারব না। তাই ঘটনার খবর জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কাছে জানিয়েছি। আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমরা প্রশাসনের দিকে চেয়ে আছি। যেন সুষ্ঠু বিচার পাই। না হলে এরা বারবার এরকম করবে। আগেও করেছে। তারা (দখলদাররা) গায়ের জোরে সব নিতে চায়। মঙ্গলবার লোকজন দূর থেকে পুঞ্জির অবস্থা দেখতে চেয়েছিল। নিজেদের কষ্টের ফসল। মন তো মানে না। তাই কয়েকজন গিয়েছিলেন। অস্ত্র দিয়ে তাদের ধাওয়া দিছে সন্ত্রাসীরা।’
বিকম আমত্রা জানান, শুক্রবার আমরার জায়গা দখল করল। শনিবার পাশের পুঞ্জির একহাজার পানগাছ কাটল। এগুলো কিন্তু প্রথম নয়। বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করা হয়। তাদের উদ্দেশ্য আমরা বিরক্ত হয়ে চলে গেলে তারা সব দখলে নেবে।
পুঞ্জির বাসিন্দাদের মধ্যে আমস রুপসি ও মালকিন সুমেরেরও জুম দখল হয়েছে। তারা বলেন, ‘মনে অনেক কষ্ট। আমরা কষ্ট করি জুম করলাম। বাঙালিরা দখল করে নিয়ে গেল। একসপ্তাহ হয়ে যাচ্ছে নিজের জায়গায় যেতে পারি না। ধাওয়া দেয়। এখন প্রশাসন উদ্ধার করি দিলে যাইতাম। তে ইলা কতদিন চলব। তারাতো (দুর্বৃত্তরা) কতভাবে আমাদের হয়রানি করে। এখনতো দখল করেছে। প্রায়ই পান চুরি করে, সুপারি চুরি করে নিয়ে যায়। আমরা এগুলো স্থানীয়ভাবে বিচার দেই। আমরার জীবন-জীবিকার ওপর হামলার উদ্দেশ্য আমরারে উচ্ছেদ করা। এরলাগি ইতা করে। প্রশাসনের কাছে আমরা নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচার চাই।’
তারা আরো বলেন, ‘প্রশাসন যদি আমার জুম তাড়াতাড়ি উদ্ধার করত আমরা উপকার অইত। আমরার কত ফসল নষ্ট হচ্ছে। হয়তো চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।’
বনাখলাপুঞ্জির বাসিন্দা ও চা-বাগান কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ছোটলেখা চা-বাগান কর্তৃপক্ষ চা চাষের জন্য ১ হাজার ৯৬৪ দশমিক ৫০ একর টিলাভূমি সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেয়। পরে তারা ২৭২ একর জমি খাসিয়াদের কাছে উপ-ইজারা দেয়। ২০০৭ সালে খাসিয়ারা ওই জমিতে বনাখলাপুঞ্জি নামে বসতি স্থাপন করে। এরপর সেখানে পান চাষ শুরু করে। পুঞ্জিতে বর্তমানে প্রায় ৩৬টি খাসিয়া পরিবারের দেড় শতাধিক সদস্য থাকে। প্রতিটি পরিবারের আলাদা পানের জুম আছে। গত ২৮ মে বোবারথল এলাকার আব্দুল বাছিত, পিচ্চি আমির, লেছই মিয়ার নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুঞ্জিতে ঢুকে তিনটি পানের জুমের দখল করে নেন। এ সময় তারা সেখানে একটি অস্থায়ী ঘরও নির্মাণ করে। তখন জুমে থাকা খাসিয়াদের তারা তাড়িয়ে দিয়ে বলে এক সপ্তাহের মধ্যে তাদেরকে ১০ লাখ চাঁদা না দিলে তারা জুমে প্রবেশ করতে পারবে না। এই ঘটনায় পুঞ্জির নারী মান্ত্রী (পুঞ্জি প্রধান) নরা ধার ও ছোটলেখা বাগানের প্রধান টিলা করণিক মো. দেওয়ান মাসুদ রোববার থানায় পৃথকভাবে দুটি মামলা করেন।
অন্যদিকে আগারপুঞ্জির জুমে সহস্রাধিক পানগাছ কাটার ঘটনায় সোমবার (৩১ মে) দুপুরে পুঞ্জির মান্ত্রী (পুঞ্জি প্রধান) সুখমন আমসে বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
বনাখলাপুঞ্জির পুঞ্জির মান্ত্রী নরা ধার মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, ‘আমরা নিরীহ মানুষ। পান চাষ করে সংসার চালাই। জুম দখল করে চাঁদা দাবি করেছে। আবার হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। জুমে যাইতে দিচ্ছে না। পুলিশের সার্কেল অফিসারসহ অনেক আইছেন। তারা বলেছেন ব্যবস্থা নেবে। আমরা খুব কষ্টে আছি। দ্রুত জুম উদ্ধার না হলে আমরা খাব কি, চিন্তায় আছি।’
আগারপুঞ্জির পুঞ্জিপ্রধান সুখমন আমসে বলেন, ‘আগারপুঞ্জিতে খাসিয়া সম্প্রদায়ের ৪৮ পরিবারের বাস। পানচাষই আমাদের একমাত্র জীবিকা। এখন পানের ভরা মৌসুম। রোববার সকালে পুঞ্জির লোকজন জুমে পান সংগ্রহ করতে যান। তারা এ সময় প্রায় এক হাজার পানগাছ কাটা দেখতে পান। এতে তাদের প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কারও সাথে আমাদের বিরোধ নেই। কে বা কারা এ কাজটি করেছে, তারা বুঝে উঠতে পারছি না।’
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং জানান, সম্প্রতি খাসিয়াদের ওপর বড়লেখার আগারপুঞ্জি ছাড়াও কাঁকড়াছড়া ও ইছাছড়া পুঞ্জিতে তাদের জীবন-জীবিকার ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু কোনোটার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি। মৌলভীবাজারের স্থানীয় প্রশাসন এই ঘটনাগুলোর বেপারে নির্বকার। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনাগুলো বারংবার সংঘটিত হচ্ছে বলেও অভিমত এই আদিবাসী নেতার।
তিনি আরো বলেন, সমতল আদিবাসীদের ভূমি নিয়ে জটিলতাগুলো দেখার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো কমিশন নেই। এই কমিশন না থাকার কারণে নানা ধরণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে আদিবাসীদের। তাই অবিলম্বে এই কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। বড়লেখার আগারপুঞ্জি ও বনাখলাপুঞ্জিতে সংঘটিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। নইলে খাসিয়া আদিবাসীরা ক্রমান্বয়ে এদেশ থেকে বিতাড়িত হবে বলেও মনে করেন তিনি।
ছোটলেখা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শাকিল আহমদ বলেন, ‘পুঞ্জির পানগাছ কাটা ও জুম দখলের ঘটনায় আমরা খাসিয়াদের পাশে থেকে সবধরণের সহায়তা দিচ্ছ। তারা যেহেতু আমাদের বাগানের আওতাধীন থাকেন। তারা থানায় মামলা করেছেন। আমাদেরও কিছু গাছ কেটে নিয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকেও মামলা হয়েছে। তবে এটা দুঃখজনক একটা দুর্বৃত্তচক্র দীর্ঘদিন থেকেই খাসিয়াদের বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
গত শুক্রবার একপুঞ্জির জুম দখল করেছে অন্যপুঞ্জির পানগাছ কেটেছে। ভয়ে খাসিয়ারা জুমে যেতে পারছে না। পানগাছ কাটার ঘটনা কিন্তু প্রথম না এরআগেও পানগাছ কাটার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সময় দুর্বৃত্তরা খাসিয়াদের পান চুরি করে, সুপারি চুরি করে নিয়ে যায়। মূলত তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে এরকম নির্যাতন করলে খাসিয়ারা পুঞ্জি ছেড়ে পালিয়ে যাবে। পরে তারা জুম দখলে নেবে। প্রশাসনের কাছে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি এসব দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় নিলে খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন নির্বিঘেœ তাদের জুম চাষ, জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।’
প্রাণ-প্রকৃতিবিষয়ক লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, ‘মৌলভীবাজার জেলার খাসি পুঞ্জির লোকজন মূলত দুইটি কারণে বিপদে আছে। প্রথমটি হচ্ছে চা বাগান সম্প্রসারণ। চা বাগান কিন্তু চা বাগান হিসেবে সম্প্রসারিত হচ্ছে না। চা বাগানের জায়গা যে নিয়মে লিজ নিয়েছিল তারা সম্প্রসারণের নামে অন্যদের সাব ইজারা দেয়। এতে কখনো এখানে রাবার বাগান, লেবু, আনারস বাগান হয়। কোথাও রিসোর্টও করা হয়েছে। এগুলো সমস্যার সৃষ্টি করছে। আরেকটা সমস্যা হচ্ছে বহিরাগত বাঙালিদের পুঞ্জি দখল। এতে বহু প্রাচীন পুঞ্জি বেদখল হয়ে গেছে। যেমন বৈরাগি পুঞ্জি, জোলেখা পুঞ্জি।’
তিনি আরো বলেন, ‘করোনা মহামারির ভেতর বড়লেখায় পান জুম দখল ও পানগাছ কাটার যে ঘটনা ঘটেছে এটা দন্ডনীয় অপরাধ। এই ঘটনায় প্রশাসনকে দ্রুত চা বাগানের প্রতিনিধি, বনবিভাগের প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি, খাসিদের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের নিয়ে একটা তদন্ত করা উচিত। তদন্ত অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ব্যবস্থা করা। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তারা যেন নিরাপদে পানজুম করতে পারেন এই ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য খাসি ও বাঙালিদের মধ্যে পারস্পরিক, সাংস্কৃতিক বিনিময় শুরু করা দরকার। খাসিদের ভূমি সমস্যা নিরসনে সিলেট বিভাগে বিশেষ ভূমি কমিশন গঠন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।’
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার সিলেটটুডেকে বলেন, ‘দখলদারদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ২৪ ঘণ্টা সময় নিলেও তাদের সরাতে পারেননি। আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের উচ্ছেদ করা হবে।'
এব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী বৃহস্পতিবার (৩ জুন) মুঠোফোনে সিলেটটুডেকে বলেন, ‘আমরা কয়েকটা পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন শক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছি। অল্প সময়ের মধ্যে এরা উচ্ছেদ হয়ে যাবে। দখলের বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং বড়লেখা থানার ওসি সেখানে গিয়ে খাসিয়াদের সঙ্গে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দুস্কৃতিকারীদের সরে যেতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। ২৪ ঘন্টা চলে গেছে। তারা সরেনি। আমরা এখন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যার ও এসপি মহোদয় প্রতিনিয়ত অবগত আছেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। আশা করছি এর রেজাল্ট সহসা দেখতে পাবেন।’