বড়লেখা প্রতিনিধি | ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আ.লীগ নেতা ও ৪নং উত্তর শাহবাজপুর ইউপি’র সদস্য মজির উদ্দিন হত্যাকান্ডের প্রায় ৬০ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও হত্যার কোন রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারছে না পুলিশ। পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে মনিরা বেগম নামের লন্ডন প্রবাসী এক মহিলাকে। যে মহিলা মোবাইল ফোনে নিহত মজির উদ্দিনকে সালিশের কথা বলে বাড়ি থেকে বের করেন। এর একঘন্টার মধ্যে মজির লাশ হয়ে ঘরে ফেরেন। শ্রীধরপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের লন্ডন প্রবাসী স্ত্রী মনিরা বেগম ফোনে সালিশের কথা বলে মজির উদ্দিনকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি রাতে। সেই মহিলাও এখন গা ডাকা দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে বৃটিশ পাসপোর্টধারী এ মহিলা লাপাত্তা হলেও ২ ছেলে ফয়ছল আহমদ (২৫) ও আতিকুর রহমান জুবেল (২০) কে এবং সন্দেহজনক ভাবে শ্রীধরপুর গ্রামের আসাব আলীর পুত্র কুটি মিয়া (৪০) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পলাতক মহিলা মনিরা বেগমের বাড়ি থেকে মজির উদ্দিন হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হতে পারে এমন কিছু আলামত উদ্ধার ও হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের ০২ ফেব্রুয়ারি আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন মনিরা বেগমকে গ্রেফতার করলেই হত্যাকান্ডের মোটিভ উদঘাটিত হবে।
তবে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে হত্যা ঘটনার তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় মজির উদ্দিনের ছেলে মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন (মামলা নং-১৫, তাং-৩১/০১/১৫ইং)।
নিহত মজির উদ্দিনের পরিবারের দাবি ও স্থানীয় অনেকের ধারনা মজির উদ্দিন ওই এলাকার আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন তিনি। তাই রাজনৈতিক কোন প্রতিপক্ষ তাকে পরিকল্পিত ভাবে মনিরা বেগমের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।
বড়লেখা থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবার এবং এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি শ্রীধরপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী মনিরা বেগমের পুত্র ফয়ছল আহমদ ও তার পুত্রবধুর মধ্যে ঝগড়া হয়। এ ঘটনায় ফয়ছল আহমদ তার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেন। তালাক প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে স্থানীয় শ্রীধরপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী মনিরা বেগমের বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে তালাকের বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষ সমোঝতায় পৌঁছায়। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতে মনিরা বেগমের পুত্র ফয়ছল আহমদ ও তার স্ত্রী পুনরায় ঝগড়া করতেছেন এমন কথা বলে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় মজির উদ্দিনকে নিজ বাড়ি থেকে ফোনে ডেকে নিয়ে যান লন্ডন প্রবাসী মনিরা বেগম। এরপর আর বাড়ি ফিরেননি মজির উদ্দিন। প্রায় এক ঘন্টা পর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা নান্দুয়ার পার্শ্ববর্তী শ্রীধরপুর মসজিদের সামনের সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় অটোরিকশার চালক সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে কাতরাতে দেখেন। অটোরিকশার চালকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সড়কে পড়ে থাকা ব্যক্তিটিকে মজির উদ্দিন বলে শনাক্ত করেন। পরে মজিরের বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই রাত পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে মনে হয়েছে। ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে শ্রীঘ্রই খুনের রহস্য বের হয়ে আসবে।