কমলগঞ্জ প্রতিনিধি | ২৪ জুন, ২০২১
নুন্যতম মজুরি বোর্ড কর্তৃক চা শ্রমিকদের জন্য খসড়া সুপারিশ বাতিলসহ ৭ দাবি নিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চা শ্রমিক নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তর্গত মনু ধলই ভ্যালির উদ্যোগে উপজেলা চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মনু ধলই ভ্যালীর সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা। এসময় লিখিত বক্তব্যে শ্রমিক নেতারা ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে খসড়া গেজেট প্রত্যাখ্যান ও বাতিল পূর্বক শিল্প ও চা শ্রমিক বান্ধব গেজেট প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
দাবিগুলো হচ্ছে, চা শ্রমিকদের দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি, খসড়া গেজেটের ৭ ধারা বাতিল, তফসিল “খ” এর ক্রমিক নং ৩ (শিক্ষানবিস) বাতিল, বৈশাখী ভাতা প্রদান, শ্রম আইন অনুযায়ী প্রসূতি কল্যাণ ছুটি ৬ মাস করা, ৬০ দিনের পূর্ণ মজুরির সম পরিমাণ টাকা উৎসব বোনাস হিসেবে প্রদান, গ্র্যাচুয়েটি, গ্রুপ বিমা ও ক্যাজুয়েল লিভ প্রদানের দাবি জানানো হয়।
এ সময় মনু ধলই ভ্যালির সহ সভাপতি গায়ত্রী রাজভর, চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীণ, মন্টু অলমিক, রাজিব কৈরী, প্রদীপ পালসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানান, চা শ্রমিকরা জন্ম থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভক্ত। তারা সব সময় নৌকা মার্কার সরকারকে ভোট দিয়ে আসছে। অথচ নৌকা মার্কার সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এখন গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। মালিক পক্ষের ব্যক্তিগত স্বার্থকে হাসিল করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে এ রকম একতরফা গেজেট পায়তারা চলছে। নিম্নতম মজুরি বোর্ডে চা শ্রমিকদের মজুরী ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা লিপিবদ্ধের ক্ষেত্রে মানসম্মত নয় বিধায় চা শ্রমিকরা খসড়া গেজেট প্রত্যাখ্যান ও বাতিলপূর্ব্বক শিল্প ও চা শ্রমিক বান্ধব গেজেট প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানান, প্রকৃতপক্ষে চা শিল্পের বহুবছরের প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশের চা সংসদের প্রতি ২ বছর অন্তর অন্তর দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়। খসড়া চুক্তিতে উল্লেখ আছে, প্রতি ৩ বছর অন্তর অন্তর দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়, সেটা সঠিক নয়। তারা আরও বলেন, প্রতি দুই বছর স্থলে তিন বছর অন্তর অন্তর চুক্তি হলে শক্তিশালী মালিক পক্ষের দ্বারা অপেক্ষাকৃত মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারে সম্ভাবনা প্রবল। তাই পূর্বের রীতি অনুযায়ী চা শ্রমিকদের শিক্ষানবিস কাল কোন সময় ছিল না আমরা এখনো চাইনা সুপারিশ অনুযায়ী মজুরী বৃদ্ধি বর্তমানে চা শ্রমিকরা ১২০ টাকা মজুরী পাচ্ছে তাছাড়া চা ইউনিয়ন ২০১৯ সালে পহেলা জানুয়ারিতে ১২০ টাকা মজুরী কার্যকর করেছে। আমরা যাহা সঠিক পাচ্ছি এমতাবস্থায় আমরা আড়াই বছর যাবত আমরা যে ১২০ টাকা মজুরী পাচ্ছি, সেই ১২০ টাকা আড়াই বছর পরে মজুরী বোর্ড কর্তৃক ঘোষণা করার কোন মানে হয় না।
কিন্তু বর্তমান বিশ্ব বাজারে খাদ্যদ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি থাকায় আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা শ্রমিকদের লেখাপড়া করা খুবই কষ্টকর হচ্ছে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এ সময় তারা বিভিন্ন দাবি-দাওয়াসহ মজুরি বোর্ডের কাছে নুন্যতম ৩০০ টাকা মজুরী প্রদানের জন্য দাবি করেন। দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে বলে জানিয়েছেন তারা।