Sylhet Today 24 PRINT

কমলগঞ্জে কামারছড়া চা বাগানে বৃক্ষনিধন, ৬০ ঘনফুট কাঠ জব্দ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি |  ০১ জুলাই, ২০২১

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ডানকান ব্রাদার্স বাংলাদেশ লি. এর মালিকানাধীন আলীনগর ফাঁড়ি কামারছড়া চা বাগানে ১১টি বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বিগত প্রায় একমাস ধরে গর্জন প্রজাতির তিন লক্ষ টাকা দামের এই গাছগুলো কাটা হয়।

চা বাগানের অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বাগানের শ্মশানালয় এলাকায় মূল্যবান এই গাছগুলো কর্তন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপনে গাছের কিছু খণ্ডাংশ স’মিলে পাচারকালে রাজকান্দি বনবিভাগ ৬০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আলীনগর চা বাগানের ফাঁড়ি কামারছড়া চা বাগানের শ্মশানালয় সংলগ্ন চায়ের টিলা থেকে গত একমাস ধরে বড় বড় সাইজের ১১টি গর্জন গাছ কেটে ফেলা হয়। গাছ কেটে খণ্ড খণ্ড করে পাচার করতে না পারায় কয়েকটি স্তূপে রাখা হয়েছে। চা বাগানের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারীর যোগসাজশে বহিরাগত গাছ চোরচক্র গাছগুলো কর্তন করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন।

গর্জন প্রজাতির এক একটি গাছের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা এবং সবগুলো গাছের আনুমানিক মূল্য তিন থেকে সাড়ে তিন লক্ষাধিক টাকা হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

কামারছড়া চা বাগানের ১৮ নম্বর সেকশনের কিছু এলাকা ঘুরে ১১টি গাছের গুড়া দেখা গেছে। বনবিভাগের অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে গাছ কাটার ফলে ছায়াবৃক্ষ নিধন হচ্ছে, উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ছে। চা বাগানের ছায়াবৃক্ষ উজাড় হওয়ায় হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ আর রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

গত মঙ্গলবার ফেলে রাখা গাছের কিছু খণ্ডাংশ পাচার করে পার্শ্ববর্তী একটি স’মিলে নেয়ার জন্য একটি ধানি জমিতে নিয়ে রাখা হয়। খবর পেয়ে বনবিভাগ কমলগঞ্জ পৌরসভার গোবর্দ্ধনপুর এলাকা থেকে ৬০ ঘনফুট কাঠ উদ্ধার করে রেঞ্জ অফিসে নিয়ে জব্দ করে। এগুলো কামারছড়া চা বাগানের গর্জন গাছের বলে বনবিভাগ নিশ্চিত করেছে।

কামারছড়া বাগানের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে আমরা বাগানে থাকতে পারবো না। এখানে বস্তির একটি গাছ চোর চক্রের সাথে বাগানের ম্যানেজমেন্টের যোগসাজশে প্রকাশ্যেই এই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। তারা গোপনে কিছু খণ্ডাংশ চুরি করে নিয়ে গেলেও বিষয়টি চতুর্দিকে জানাজানি হলে ফেলে রাখা হয়। এখন বলা হচ্ছে চুরি করে কেটে রাখার সময় আটকানো গাছ। তারা আরও বলেন, এই অঞ্চলে চা বাগানের প্রচুর গাছ চুরি হয়েছে। সবগুলোই ম্যানেজমেন্ট অবগত আছে।

ডানকান ব্রাদার্স আলীনগর চা বাগানের সংশ্লিষ্ট সেকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী ব্যবস্থাপক ফারুক আহমদ বলেন, আমি ছুটিতে থাকাকালীন বহিরাগতরা গাছগুলো কেটে ফেলে। পরে এগুলো আটক করেছি।

আলীনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক হাবিব আহমদ চৌধুরী বলেন, এগুলো শ্মশানালয়ের গাছ ছিল। শ্রমিকরা কেটে ফেলে। পরে বনবিভাগ আপত্তি দেয়ার পর পরিত্যক্ত রয়েছে।

রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, গত গত মঙ্গলবার আমরা পৌরসভার একটি স্থান থেকে প্রায় ৬০ ঘনফুট কাঠ আটক করার পর এগুলো কামারছড়া চা বাগানের বলে জানতে পারি। তবে এখানে গাছ কর্তন বিষয়ে আমাদের কোন অনুমতি নেই এবং গাছ কাটার বিষয়টিও আমাদের জানা নেই।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.