বড়লেখা প্রতিনিধি | ০৪ জুলাই, ২০২১
করোনার টিকা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিদেশ গমনেচ্ছুক ও প্রবাসীদের ভোগান্তি দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন। জেলা সদর ব্যতিত দেশের এটিই একমাত্র উপজেলা যেখানে বিদেশ গমনেচ্ছুক ও প্রবাসীরা প্রায় ঘরে বসেই টিকার নিবন্ধন করতে পারবেন।
এ লক্ষ্যে প্রবাসীদের স্থানীয় পর্যায়ে টিকা নিবন্ধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (৪ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান ভার্চুয়ালি এই নিবন্ধন কাজের উদ্বোধন করেন। প্রথম দিনে উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নে চারজন প্রবাসীর টিকার নিবন্ধন করা হয়েছে।
নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ময়নুল হক, উপকারভোগীদের মধ্যে সৌদি প্রবাসী আব্দুল হাফিজ ও দুবাই প্রবাসী আবুল হোসেন, উদ্যোক্তা রাসেল সাইফ প্রমুখ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা। এখান থেকে জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। দশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বড়লেখা প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপে কর্মরত আছেন বড়লেখার অসংখ্য মানুষ। করোনা পরিস্থিতিতে ছুটিতে দেশে আসা ও প্রবাসে গমনেচ্ছুক কর্মীদের করোনার টিকা দেওয়া প্রয়োজন। এঅবস্থায় সারাদেশের প্রবাসীদের জেলা সদর ও অথবা নির্ধারিত স্থানে গিয় নিবন্ধন করতে সম্প্রতি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকার।
লকডাউন পরিস্থিতিতে বড়লেখা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের জেলা সদরে গিয়ে প্রবাসীদের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকার নিবন্ধন করা অত্যন্ত কষ্টকর। একষ্ট লাগবের জন্য উদ্যোগ নেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী।
এরপর শনিবার মৌলভীবাজার জেলার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সাথে ভার্চুয়ালি ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের (ইউডিসি’র) কয়েকজন উদ্যোক্তাকে ১ ঘন্টার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি একটি মাইক্রোবাস, ৩জন ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডার, প্রয়োজনীয় ল্যাপটপসহ একটি ভ্রাম্যমাণ দল গঠন করে দেন। যারা বিভিন্ন ইউনিয়ন কার্যালয়ে বসে ও প্রয়োজনে প্রবাসীদের বাড়িতে গিয়ে ভ্যাকসিন নিবন্ধন করে দেবে। নিবন্ধন করতে প্রবাসীদেরকে শুধুমাত্র সরকার নির্ধারিত ফি বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
আলাপকালে নিজবাহাদুর পুর ইউনিয়নের গল্লাসাংঙ্গন গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল হাফিজ বলেন, ‘লকডাউনে জেলায় গিয়ে ভ্যাকসিন নিবন্ধন করা নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। আমার বাড়ি থেকে মৌলভীবাজার সদর প্রায় ৯০ কিলোমিটার। যাওয়া-আসায় ১৮০ কিলোমিটার। ইউএনও স্যার আমরার এই কষ্ট দূর করি দিছন। আজ নিজের ইউনিয়নে বসে দ্রুত নিবন্ধন করতে পেরেছি। নিবন্ধন করে কিছুটা চিন্তামুক্ত হলাম।’
ওই ইউনিয়নের পকুয়া গ্রামের প্রবাসী নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ভ্যাকসিন নিবন্ধন নিয়ে খুব চিন্তায় আছলাম। কিভাবে জেলায় যাব লকডাউনের মধ্যে এটা নিয়ে। রোববার আমার জীবনে খুব আনন্দের দিন মনে হয়েছে। দুপুর ২টা হবে। বাড়িতে বসে ছিলাম। হঠাৎ দেখি অনেগুলো গাড়ি এসে থেমেছে বাড়ির সামনে। ইউএনও, চেয়ারম্যানসহ আরো অনেকে সাথে ছিলেন। তারা বাড়িতে এসে আমার ভ্যাকসিন নিবন্ধন করে দিয়েছেন। ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই। কল্পনাও করিনি এত দ্রুত সব নিবন্ধন হয়ে যাবে।’
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী সিলেটটুডেকে বলেন, ‘বড়লেখা শহর থেকে জেলার দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। লকডাউনে টিকার নিবন্ধনের জন্য জেলায় যাওয়া প্রবাসীদের জন্য অনেক কষ্ট কর এবং ব্যয়বহুল। তাই তাদের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম আরও নিরাপদ ও সহজতর করার লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে আমাদের এই উদ্যোগ। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ভ্রাম্যমাণ টিম গঠন করেছি দক্ষ উদ্যোক্তাদের নিয়ে। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সকল ইউনিয়ন এবং বড়লেখা পৌরসভার উদ্যোক্তাদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারা নিজ ইউনিয়নে বসে প্রবাসীদের নিবন্ধন করে দেবেন। প্রয়োজনে প্রবাসীদের বাড়িতে গিয়ে নিবন্ধন করে দেবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি নিজেই মনিটরিং করছি।’