বড়লেখা প্রতিনিধি | ০৫ জুলাই, ২০২১
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী রহিমা বেগমের (২০) গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তার স্বামী শিপন আহমদ।
আজ সোমবার দুপুরে বড়লেখা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হরিদাস কুমারের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রতন দেবনাথ।
মুঠোফোনে তিনি বলেন, আদালতে রহিমার স্বামী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি (শিপন) কী কারণে স্ত্রী রহিমার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন, সেসব বর্ণনা দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে পুুলিশ তাকে জেলা কারাগারে পাঠায়।
শিপন জবানবন্দিতে আদালতকে জানিয়েছেন, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রহিমার সঙ্গে প্রায় তার ঝগড়া হতো। এতে তিনি তাকে মারধর করতেন। এ কারণে সাত মাস আগে রহিমা একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তার বাবার বাড়ি হরিপুর গ্রামে চলে যান। সন্তানকে দেখতে তিনি (শিপন) প্রায়ই শ্বশুর (রহিমার বাবার) বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। গত শনিবার রাতে তিনি তার সন্তানকে দেখতে শ্বশুর বাড়িতে যান। পরে সেখানে রাত্রিযাপন করেন। রোববার ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় রহিমা বেগমের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তিনি পালিয়ে যান। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত শিপনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে পুুলিশ তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
এদিকে অগ্নিদগ্ধ রহিমা বেগমকে গত রোববার (৪ জুলাই) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তার স্বজন।
সোমবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে রহিমার ভাই রাজু আহমেদ বলেন, ‘বোনের অবস্থা খুব খারাপ। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনের নির্যাতন সইতে না পেরে প্রায় সাত মাস আগে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন গৃহবধূ রহিমা বেগম। রোববার ভোররাতে বাবার বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় রহিমার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তার স্বামী শিপন আহমদ। ঘটনার পরই তিনি পালিয়ে যান। এতে রহিমার হাত-মুখসহ শরীরের প্রায় ৬৩ শতাংশ পুড়ে যায়। রহিমার চিৎকার শুনে স্বজনরা তাকে দ্রæত উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন। রহিমা বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে রফিক উদ্দিনের মেয়ে।
ঘটনার দিনই (রোববার) রহিমার ভাই রাজু আহমদ দুপুরে বাদী হয়ে বোন জামাই শিপন আহমদসহ তিনজনের নামোল্লেখ করে বড়লেখা থানায় মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ওইদিন বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার পশ্চিম হাতলিয়া এলাকা থেকে শিপনকে এবং বিকেলে রহিমার শ্বাশুড়ি আনুরি বেগমকে গ্রেপ্তার করে। শিপন আহমদ উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের আরেঙ্গাবাদ গ্রামের মুকুল মিয়ার ছেলে।