তাহিরপুর প্রতিনিধি | ০৫ জুলাই, ২০২১
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দুরগোড়ায় পৌছাতে বর্তমান স্বাস্থ্য খাতে এত উন্নয়নর হলেও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত দুইযুগ ধরে কোন ধরনের উন্নয়ন হয়নি। ল্যাব থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকার কারণে রোগীরা হাসপাতালে কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে পারেন না।
এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, রক্ত পরীক্ষাও বাইরে থেকে করাতে হয়। রয়েছে বিশেষ রোগের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডাক্তার, নার্সসহ বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা, কর্মচারীর সংকট। তাই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলার সচেতন মহল।
শরীফ মিয়াসহ স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে স্বাস্থ্যসেবায় এতো উন্নয়ন হওয়ার পরেও হাওর বেষ্টিত উপজেলার স্বল্প আয়ের অসহায় মানুষের সুচিকিৎসা দিতে পারছে না সরকারি হাসপাতাল। সেবা নিতে এসে চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে বাধ্য হয়ে বাহিরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে রোগীদের।
এদিকে, উপজেলায় চিকিৎসা সেবা আরও একধাপ এগিয়ে নিতে সরকারিভাবেই ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবন ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও সুনামগঞ্জ-১ এর সাংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন উদ্বোধন করেন। ডাক্তার-নার্স, স্টাফসহ স্বাস্থ্যসেবার মান কিছুটা বাড়বে আশার সঞ্চার হলেও উদ্বোধনের পরও প্রয়োজনীয় আসবাব, যন্ত্রপাতি ও লোকবল সংকটের কারণে উন্নীতকরণের সুফল পাচ্ছে না উপজেলাবাসী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে কর্মকর্তা, ডাক্তারগন যোগদানের পর থেকেই অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ার জন্য তদবির করে বদলী হয়ে যান। যার জন্য শূন্যতা পিছু ছাড়ে না হাসপাতালটির। বর্তমানে ৪ জন ডাক্তার থাকলেও হাসপাতালের বিশেষ রোগে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোন ডাক্তার নেই। গত দুইযুগের বেশী সময় ধরে ডেন্টাল, ল্যাব টেকনোলজিস্ট, রেডিওগ্রাফার পদগুলো শূন্য রয়েছে। ফলে কোন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।
এদিকে গত ৬বছর পূর্বে একটি এক্সরে ও ডেন্টাল মেশিন দিলেও একটি ঘরে ভিতরে থেকে নষ্ট হচ্ছে এর যন্ত্রপাতি। হাসপাতালে ৩টি জেনারেটর গত ১৫বছর যাবত নষ্ট হয়ে পরে আছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীরা গরমে ছটফট করেন।
হাওর বেষ্টিত দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মানিকখিলা গ্রামের শাহজাহান মিয়া জানান, হাসপাতালে জ্বর নিয়ে এসে ডাক্তার দেখালে রক্ত পরীক্ষার জন্য বলে। হাসপাতালে কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাহিরে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়েছে।
টাংগুয়ার হাওর পাড়ের বাসিন্দা আমিনুল মিয়া জানান, হাসপাতালে দাঁতের ডাক্তার নেই আর উপজেলায় দাঁেতর ডাক্তার না থাকায় এখন সুনামগঞ্জ জেলা শহরে যেতে হয়। না হলে বাজারের নাম সর্বস্ব ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে।
উপজেলা সদর থেকে ১০কিলোমিটার দূর বাদাঘাট ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা নুর মিয়া জানান, এক্সরে করানো যায় না, মেশিন বলে নাই কি করমু বাহিরে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পরীক্ষার করে রিপোর্ট আনতে হয়েছে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন বলেন, উপজেলার একমাত্র হাসপাতালটিতে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দিলে আগত অসহায় রোগীরা চিকিৎসা সেবা পেয়ে উপকৃত হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার সৈয়দ আবু আহমদ শাফী জানান, লোকবল সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন চালু করার জন্য আবেদন করা হলে জনবল না থাকায় কোন কাজ হচ্ছে না। আর ল্যাব থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকার কারণে রক্ত পরীক্ষার করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি নতুন যোগদান করার পরেই শূন্য পদগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণাসিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান উন্নতির জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ ও ল্যাব টেকনিশিয়ান পদায়নসহ প্রতিটি পদে নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো। জনসাধারণের সুচিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান করবেন বলে জানান তিনি।