Sylhet Today 24 PRINT

প্রেমকুমার ও দুই মাস্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৯ জুলাই, ২০২১

এই ষাঁড়ের নাম প্রেমকুমার

গায়ের রঙ তামাটে। নিচের দিকে সাদা ছোপ ছোপ। থলথলে শরীর। নাম তার প্রেমকুমার।

প্রেমকুমার কেনো?- –আব্দুছ ছাত্তার লাভলু বললেন, দেখতে সুন্দর। গায়ের রং ভালো। দেখলে প্রেম জাগে। তাই ভালোবেসে এর এর নাম দিয়েছি প্রেমকুমার।

সিলেট নগরের খাদিম এলাকায় একটি দুগ্ধ খামার গড়ে তুলেছেন লাভলু। নাম- ‘আল্লার দান ডেইরি এগ্রো ফার্ম’। ২০১৮ সাল থেকে এই ফার্মে ষাঁড় লালন-পালন শুরু করেন। তিনবছর আগে বাছুর হিসেবে নিয়ে এসেছিলেন যেগুলো সেগুলোই এখন একেকটা বিরাট ষাঁড় হয়ে ওঠেছে। তাদেরই একটির নাম ‘প্রেমকুমার’।

বিশালাকৃতির আরেকটি ষাঁড়। গয়ের রঙ একেবারে কালো কুচকুচে। এর নাম ‘সাদা মাস্তান’। আর ধবল যে ষাঁড়টি তার নাম রেখেছেন ‘সাদা মাস্তান’।

বুধবার সিলেট সদর উপজেলার খাদিমে ‘আল্লার দান ডেইরি এগ্রো ফার্ম’-এ গিয়ে দেখা মিললো এই দুই মাস্তান আর প্রেমকুমারের।

এই সময় কথা হয় ফার্মের সত্ত্বাধিকারী আব্দুছ ছাত্তার লাভলুর সঙ্গে। লাভলু জানান, ২০১২ সালে এই দুগ্ধ খামারটি গড়ে তুলেন তারা। ২০১৮ সাল থেকে কিছু বাছুর এনে লালন পালন শুরু করেন। এই বছর এগুলো পূর্ণ ষাঁড় হয়ে উঠেছে। যা এই ঈদে বিক্রি করা শুরু করেছেন।

লাভলু বলেন, এবছর আমরা ইতোমধ্যে ১৫/১৬ টি ষাঁড় বিক্রি করেছি। বড় আকৃতির ১০টি ষাঁড় এখনো রয়ে গেছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বিশালাকৃতির যে তিনটি সেগুলো হলো- প্রেমসাগর, সাদা মাস্তান ও কালো মাস্তান।

লাভলু বলেন, প্রয়ে সাড়ে ৩ বছর ধরে এগুলো লালন পালন করছি। সম্পূর্ণ দেশিয় জাতের খাবার খাইয়েছি। সাদা মাস্তান ও কালো মাস্তানের দাম ধরেছি ৬ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দাম করেছেন কয়েকজন। আমরা বিক্রি করিনি। আর প্রেমকুমারের দাম ধরেছি ধরেছি সাড়ে ৫ লাখ টাকা। এতে ওজন প্রায় সাড়ে ৮শ’ কেজি। প্রেম সাগর দেশি সাওয়াল জাতের ও দুই মাস্তান ফিজিয়ান জাতের বলে জানান তিনি।

এই উদ্যোক্তা বলেন, করোনা সংক্রমণের কারণে এবার ঈদে পশুর হাট বসবে কি না জানি না। তবে হাট বসলেও আমরা যাবো না। কারণ এবার হাটে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আমাদের গরু কিনতে হলে খামা থেকে এসেই কিনতে হবে। যেহেতু আমাদের গরুগুলো ভালো তাই আমরা আশাবাদী ক্রেতারা এখান থেকে এসেই কিনে নিয়ে যাবেন। আর আমরা দাম রাখছি বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম। ফলে ক্রেতারাও উপকৃত হবেন।

এদিকে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে সিলেট বিভাগে ১২ হাজার ৯৭২ জন খামারির কাছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮০৫ টি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে। এরমধ্যে সিলেট জেলায় ৫৮ হাজার ৭৯৩টি, মৌলভীবাজার জেলায় ৩২ হাজার ৫২৯টি, হবিগঞ্জে ৩৭ হাজার ৬২৮টি এবং সুনামগঞ্জে ৪৮ হাজার ৮৫৫টি কোরবানি যোগ্য পশু রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সিলেটে যে পরিমাণ পশু রয়েছে তাতে এবার দেশের বাইরে থেকে পশু আনা লাগবে না। স্থানীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পুণ হবে।

সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রুস্তম আলী বলেন, সিলেটে যে পরিমাণ পশু আছে তাতে চাহিদাপূরণ হয়ে যাবে। কারণ খামারিদের বাইরেও প্রচুর কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে। গত বছর সিলেট জেলায় ১ লাখের মতো পশু কোরবানি হয়েছিল। এবারও এরকমই হবে বলে আমরা ধারণা করছি। সেজন্য স্থানীয় ও খামারিদের কাছে থাকা কোরবানিযোগ্য পশু মিলিয়ে চাহিদা অনেকটাই পূরণ হয়ে যাবে। আর কিছু পশু অন্যান্য জেলা থেকেও সিলেটে আসবে বলে জানান তিনি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.