মৌলভীবাজার সংবাদদাতা | ২১ নভেম্বর, ২০১৫
বকেয়া মজুরিসহ বিভিন্ন দাবিতে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ধামাই টি কোম্পানির ধামাই চা-বাগানের শ্রমিকেরা শুক্রবার কর্মবিরতি পালন করেছেন। তবে স্থানীয় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের আশ্বাসে শ্রমিকদের বকেয়া রবিবার দেওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, ধামাই চা বাগানে ১৭০০ জন স্থায়ী ও ৩৬০ জন অস্থায়ী শ্রমিক রয়েছেন। গত বুধবার শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি ও রেশন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্থায়ী শ্রমিকেরা তা পাননি। তাঁদের তিন সপ্তাহের রেশন বকেয়া রয়েছে।
অস্থায়ী শ্রমিকেরা তিন সপ্তাহ ধরে মজুরি পাচ্ছেন না। প্রতি মাসে ভবিষ্য তহবিলে (প্রভিডেন্ট ফান্ড) শ্রমিকদের মাথাপিছু ২০০ টাকা করে জমা হওয়ার কথা। দেড় বছর ধরে সেটা জমা হচ্ছে না।
২৪ জন সরদারের (শ্রমিকদের কাজ তদারককারী) দুই মাস ধরে বেতন বন্ধ। শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি আগে ৬৯ টাকা ছিল। গত ৬ অক্টোবর চা-বাগানের মালিকপক্ষের সংগঠনের সঙ্গে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সমঝোতা স্মারক সই হয়। তাতে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
মালিকপক্ষের সংগঠনের পক্ষ থেকে গত জানুয়ারি মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরির টাকা দুই কিস্তিতে দেওয়ার কথা বলা হয়। ধামাই বাগানের শ্রমিকেরা সেটা পাননি। এসব কারণে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, সকাল নয়টা থেকে শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শুরু করেন। এ সময় তাঁরা বাগানের কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে বেলা দেড়টার দিকে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান। পরে তিনি বাগানের ব্যবস্থাপক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন।
কিশোর রায় চৌধুরী বলেন, বৈঠকে রোববার শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরির টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর বাকি দাবিদাওয়া নিয়ে বাগানের মালিকের সঙ্গে দ্রুত আলোচনার উদ্যোগ নিতে ব্যবস্থাপককে অনুরোধ করা হয়েছে। শ্রমিকেরা কাজে যাবেন বলেছেন।
ধামাই বাগানের ব্যবস্থাপক গোপাল শিকদার জানান, কোম্পানির প্রধান কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় টাকা না পাওয়ায় শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া পূরণ করা যাচ্ছে না।
শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন প্রদানের জন্য ইতিমধ্যেই স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিনি বেশ কিছু টাকা ধার করেছেন। সার্বিক বিষয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি ঢাকায় গিয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলবেন।