Sylhet Today 24 PRINT

জলে ভাসা গ্রামের কাদামাখা সড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৫ জুলাই, ২০২১

জলের ভাসা গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলাধীন ফতেপুর ইউনিয়নের অন্তেহরি গ্রাম। দেশের একমাত্র ‘সোয়াম ভিলেজ’ হিসেবেও স্বীকৃত।

জল আর অরণ্যের মধ্যখানের এই গ্রামটি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়। তবে গ্রামের মানুষদের অন্যতম দুঃখের নাম কাচা সড়ক।

এই সড়কের কারণে পর্যটকদেরও পড়তে হয় ভোগান্তিতে। বৃষ্টির মৌসুমে কাদা আর খানাখন্দে সড়কটি হয়ে পড়ে চলাচলের অনুপযোগি।

জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলা শহরের সাথে এই গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র সংযোগ হচ্ছে কয়েকযুগ পুরনো একটি মেঠোপথ। শুষ্ক মৌসুমে উঁচুনিচু সড়কটি পায়ে হাঁটার উপযোগী থাকলেও বর্ষা আসলেই শেষ! শহর থেকে আসার পথে গ্রামের প্রবেশ মুখসহ ভেতরের প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা বেহাল হয়ে ওঠে জল আর কাদামাটিতে। যানচলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হাঁটাও সড়কটি দিয়ে দায় হয়ে যায়। আর রোগী হলে হাসপাতাল পৌঁছতে নানা ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়।

এদিকে গত কয়েক বৃষ্টিতে অসংখ্য গর্ত আর কাদামাটির কারণে এই গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এমন বাস্তবতায় বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) ‘জলেরগ্রাম’ অন্তেহরির একমাত্র চলাচলের সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন ১নং ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাস। তার উদ্যোগে অন্তেহরি, মুজেফরপুর এবং কাদিপুর গ্রামের সর্বস্তরের জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম এবং স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণে চলাচল উপযোগী করার চেষ্টা করা হয়।

এ সময় স্বেচ্ছাসেবীদের পক্ষ থেকে সিনিয়র হাইস্কুল শিক্ষক পুলক দাস বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এই গ্রামের জনগণের দুর্ভোগের মূল কারণ হচ্ছে এই কাঁচা রাস্তা। এই রাস্তার কারণে আমরা অনেক সময় রোগী নিয়ে মৌলভীবাজার হাসপাতালে যেতে সীমাহীন কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছি। এখান থেকে বৃষ্টি মৌসুমে রোগীকে টেলা (হাতাগাড়ি) দিয়ে, কাধে করে বা পলোতে দিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে গিয়ে গাড়িতে উঠতে হয়। এই কাঁচা রাস্তাটি কাদায়-গর্তে ভরে গেছে। পায়ে হেঁটে সুস্থ মানুষই চলাচল করা যাচ্ছে না।’

১নং ফতেপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাস বলেন- এই এলাকার মানুষ কৃষিজীবী। এখান থেকে হাজার হাজার মেট্রিকটন ধান শহরে নেওয়া হয়। ধানের ব্যাসায়ীরা ধান নেন, কৃষকরা ধান বিক্রি করেন। ধান বুঝাই ট্রাক এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া-আসা করার ফলে এই কাঁচা রাস্তা বড়বড় গর্ত আর কাদামাটিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন- মানুষের কষ্ট বিবেচনায় আমরা গ্রামবাসীকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এই কাদাগলিত রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ একটি কর্মসূচি পালন করছি। কর্মসূচিতে আজ দিনভর গ্রামের মানুষ, যাতায়াতের অযোগ্য এই রাস্তাটিকে মেরামত করে মোটামুটি পায়ে হেঁটে চলাচলের যোগ্য করে তুলেছি। কিন্তু, যানবাহন চলাচলের উপযোগি করা সম্ভব হয়নি। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। সরকার যেন দ্রুত, বাংলাদেশের এই ‘সোয়াম ভিলেজ’ পর্যটন-বান্ধব গ্রামটির একমাত্র যোগাযোগ সড়ক পাকাকরণের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত করে তুলেন।

‘গ্রাম হবে শহর, সেই গ্রাম হবে শহর’ প্রধানমন্ত্রীর এই স্লোগান উল্লেখ করে তিনি বলেন- ‘আমাদের এই এলাকাটি যাতে অনুউন্নত থেকে উন্নত হয়। আমি আশা করবো প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের দিকে সুদৃষ্টি দেন তাহলে এই এলাকার মানুষ অসহনীয় দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.