অঞ্জন রায়, নবীগঞ্জ: | ১৮ জুলাই, ২০২১
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতিবছর কর্মব্যস্ত সময় পার করেন নবীগঞ্জ উপজেলার কামারশিল্পের সাথে জড়িতরা। তবে এ বছর দেখা গেছে ভিন্নতা। ঈদ ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু এবার দা, চাপাতি ও ছুরির চাহিদা কম থাকায় বিপাকে কামাররা। তৈরি করা পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। তাতে বাড়ছে চিন্তা।
নবীগঞ্জ পৌর শহরের নতুন বাজারস্থ কামার পাড়ার ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপকালে এমনটাই জানা গেছে।
সুকুমার চন্দ্র দেব (কর্মকার) বলেন, ‘গত বছরের মতো এবছর বিক্রি হচ্ছে না। লকডাউনের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে জিনিস বানাতে পারি নাই। এখন পর্যন্ত তেমন বিক্রি হচ্ছে না। ঈদের আগ পর্যন্ত এই কয়েক দিন বিক্রি হবে বলে আশা করছি। কোম্পানীর কারণে সামান্য লাভে জিনিস বিক্রি করতে হচ্ছে। আগে যে পণ্য একশত পঞ্চাশ টাকায় বিক্রি করতে পারতাম এখন সেই পণ্যই নরমাল কোয়ালিটিতে পঞ্চাশ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।’
তিনি জানান, সারা বছর কাজের চাপ থাকে না। যা লাভ এই ঈদ মৌসুমেই হয়। তবে এবার সেই লাভটুকুও হচ্ছে না।
রাখাল দেব বলেন, ‘লকডাউন আর বৃষ্টির কারণে আমাদের ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। ঈদকে সামনে রেখে অন্য বারের মতো জিনিস বানাতে না পারলেও সামান্য পরিমাণ জিনিস বানানো হয়েছে। যা বানানো হয়েছে তাও বিক্রি হচ্ছে না।’
মনসুর মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘প্রবাস থেকে ছোটভাই কোরবানির পশু কিনার জন্য কম পরিমাণে টাকা দেওয়ায় একটি পশু ক্রয় করেছি। শুধু একটি ছোট চুরি ক্রয় করেছি। পুরাতন যন্ত্রপাতি এবার কোরবানির পশু জবাই করে নেব।’
কামার দোকানদারদের অভিযোগ কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কয়লা, লোহাসহ সকল জিনিসপত্রের দাম দাম বেড়েছে।
অপরদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ ঈদ উপলক্ষে দা, চাপাতি ও ছুরির দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। ছুরি শান দেওয়ার জন্য পঞ্চাশ টাকা থেকে শুরু করে কাজের গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে একশত পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কামারদের ব্যস্ততা দ্বিগুণ বাড়লেও বেচা-বিক্রি সেই আগের মতো স্বাভাবিকই রয়ে গেছে।