Sylhet Today 24 PRINT

এখনো জমেনি সিলেটের পশুর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৯ জুলাই, ২০২১

আসন্ন ঈদ উল আযহা উপলক্ষে সিলেট নগরীর স্থায়ী পশুর হাট কাজিরবাজার খুলে দেওয়া হয়েছে গত শুক্রবার। কেউ গরু দেখছেন, কেউ কিনছেন, কেউবা আবার দরদাম করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাচাই করছেন।তবে এখন পর্যন্ত পুরোদমে হাট জমে উঠেনি বলে জানান পশু বিক্রেতা ও হাট কর্তৃপক্ষ। হাটের তৃতীয় দিনেও ক্রেতারা গরু কেনার চেয়ে বেশি দেখছেন। তবে হাট কর্তৃপক্ষ মনে করছেন শহরে গরু রাখার জায়গা কম তাই ঈদের আগের দিনই নগরবাসী পশু ক্রয় করতে আসবেন।

কাজিরবাজার হাটে এবার দেশী, শাহীয়াল, নেপালিসহ বিভিন্ন খামার থেকে বড় আকারের বেশ কিছু গরু এসেছে। তবে এবার মাঝারী আকারের গরুর বেশি চাহিদা রয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।

সিলেটের দক্ষিণসুরমা থেকে সুরমার কায়স্তরাইল থেকে একটি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন আব্দুল জলিল। বাড়িতে আরও তিনটি গরু রয়েছে তার। যে ষাঁড়টি হাটে এনেছেন সেটা ছোট ষাঁড় তবে, দেখতে সুন্দর। দাম চাচ্ছেন এক লাখ। বেশ কয়েকজন ক্রেতা দামাদামি করে গেলেও এখন পর্যন্ত গরুটি বিক্রি করেননি তিনি। আব্দুল জলিল বলেন, ষাঁড়টিকে খৈল ভুষি, ভাতের ফেন এসব খাওয়াইছি। ছোট হইলেও মাংস বেশি হবে। এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার দাম হইছে। আর কিছু বেশি পাইলে বিক্রি কইরা দিমু।

এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে কাজিরবাজার হাটে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। বাজারের প্রবেশপথ এবং বহির্গমন পথে রাখা হয়েছে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা। ক্রেতা বিক্রেতারা মাস্ক পরেছেন কি না সে বিষয়েও খেয়াল রাখছেন হাট কর্তৃপক্ষ। কেউ মাস্ক পরে না আসলে তাকে মাস্ক সরবরাহ করছেন। পাশাপাশি করোনা সচেতনতায় হাটের ভিতর একটু পর পর মাইকিং করছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে, মাস্ক পরতে, হাত ধুতে, ছোট বাচ্চাদের হাটে না আনতে বলা হচ্ছে মাইকে।

সরজমিনে দেখা যায়, কাজিরবাজার হাটের প্রবেশপথ এবং বহির্গমন পথে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হাটে ক্রেতা তুলনামূলক কম ছিলেন তাই সামাজিক দূরত্ব মোটামুটি ভাল ভাবেই মানা হয়েছে। মাস্ক ব্যবহারও অনেক সচেতন ছিলেন ক্রেতা বিক্রেতারা।

সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার হাফিজ মিয়া মাঝারী আকারের একটি গরু কিনেছেন ৬০ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, বাজারে অনেক পছন্দের গরু রয়েছে। সেগুলো বড় আকারের। করোনার কারণে এবার আর্থিক সংকট আছে তাই পরিবারে সবাই মাঝারি সাইজের গরুই নিতে বলেছেন।

ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার থেকে গরুর ব্যাপারী দেশী ও শাহীয়াল মিলে মোট ৬০টি গরু নিয়ে বাজারে এসেছেন। তিনি বলেন, দুপুরে ক্রেতা কম থাকলেও বিকেলে বেড়েছে ক্রেতার সংখ্যা। এখন পর্যন্ত ভালই দামাদামি হচ্ছে। আশা করি গরুগুলোর ভাল দাম পাব। এবছর মানুষের চাহিদা মাঝারী গরু বেশী। বাজারে প্রচুর পরিমাণে মাঝারী গরু আছে।

এছাড়াও নেপালিসহ বিভিন্ন খামার থেকে বড় সাইজের বেশ কিছু গরু রয়েছে কাজিরবাজারে। সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরানের খামার থেকে নেপালিয়ান জাতের দুটি বিশাল গরু নিয়ে আসা হয়েছে হাটে। প্রতিটির ওজন ১১শ কেজি। দাম হাঁকছেন ৬ লক্ষ টাকা করে।

এ ব্যাপারে কাজিরবাজার হাটের ম্যানেজার শাহাদত হোসেন লোলন বলেন, লকডাউনের কারণে আমাদের হাট বন্ধ ছিল। শুক্রবার খুলে দেওয়া হয়েছে। ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন। অনেকে গরু কিনছেনও। তবে করোনার কারণে অন্যান্য সময়েরে তুলনায় হাটে ভিড় অনেকটা কম। আজ থেকে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত হাট চলবে। সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা দামের গরু আছে হাটে।

স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে হাটের দুটি প্রবেশ পথে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারো মাস্ক না থাকলে আমাদের নজরে আসলে আমরা মাস্কও সরবরাহ করছি। বাচ্চাদের হাটে নিয়ে না আসার জন্য বলছি। করোনা সচেতনতায় একটু পর পর হাটে মাইকিং করাচ্ছি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.