Sylhet Today 24 PRINT

গলার কাঁটা ৪ সেতু, ব্যাহত নৌ চলাচল

তাহিরপুর প্রতিনিধি |  ০২ আগস্ট, ২০২১

সড়ক যোগাযোগ উন্নত করতে নদীর উপর নির্মিত হয়েছে সেতু। এতে সড়ক যোগাযোগ সহজ হলেও ব্যাহত হচ্ছে নৌ যোগাযোগ।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার চারটি সেতু তাই উল্টো গলাক কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসীর। বর্ষায় মৌসুমে নদীতে সামান্য পানি বাড়লেই এসব সেতুর নিচ দিয়ে নৌ-যান চলাচল করতে পারে না। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রী ও মালামাল পরিবহনকারী চালকদের। ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে।

অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণের ফলে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের যাদুকাটা নদীর আনোয়ারপুর বাজার সংলগ্ন আনোয়ারপুর সেতু, একেই সড়কের বীরনগর খালে নির্মিত বীর নগড় সেতু, থানার সম্মুখে বৌলাই নদীতে বৌলাই সেতু, তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কে টাকাটুকিয়ায় ভান্ডা নদীতে টাকাটুকিয়া সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারে না নৌযান।

এসব সেতু নির্মান করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর(এলজিইডি)। উপজেলার  নতুন বাজারে নির্মাণাধীন আরেকটি  সেতুও উচ্চতায় কম বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও নৌযান চালকদের কাছ থেকে জানা যায়, উপজেলার চারটি নদীতে নির্মিত অপরিকল্পিত চারটি সেতু  উচ্চতায় কম থাকার কারণে মাঝারি বর্ষায় পানি বাড়লেই নিচ দিয়ে চলাচল একবারেই বন্ধ হয়ে যায়। অনেক নৌকা সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে আটকে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। আর নদীতে সেতুর পিলারের দৈর্ঘ্য কম থাকায় পানি কমলেও ঝুঁকি মুখে পড়ার ভয়ে সকল নৌযানকে ১০-১৫কিলোমিটার এলাকা ঘুরে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। এতে করে পরিবহন খরচ বেশি দিতে হয়।

সেতু নির্মাণের সময় জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল অন্যান্য বিভাগের সাথে আন্ত বিভাগীয় সমন্বয় না হওয়ার ফলে এখন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। সেতুগুলোতে একটি বা দুটি স্পেন বাড়িয়ে উচ্চতা বৃদ্ধি করলে এমনটা হত না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সেলিম আহমেদ বলেন, নদীতে নির্মিত সেতুগুলো নদীর মাঝ অংশে উচ্চতা ও সেতুর পিলারের দুরত্ব বাড়িয়ে নির্মাণ করা হলে বর্ষায় কোন সমস্যা হত না। এখন আমরা ব্যবসায়ীরা নৌযান চালকদের বেশি টাকা দিয়ে বাধ্য হয়ে মালামাল পরিবহন করতে গিয়ে সময় ও টাকার দুটির ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি।

নৌ যান চালক আমিনুল ইসলাম জানান, বছরে ৬মাস বর্ষায় সময় নদী পথে নৌযান চলাচল করে। আর তখনেই বিপদ। নদীতে নির্মিত সেতুগুলোর উচ্চতা ও সেতুর পিলারের দুরত্ব কম থাকায় চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ৮-১০ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে হাওরের ভিতর দিয়ে মূল গন্তব্যে পৌছাতে হয়। এতে করে এক দিকে সময় বেশি লাগে আর তেল খরচ বেশি হয়।

তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা সাজিদ মিয়া জানান, নতুন বাজারে একটি সেতু নির্মাণ হচ্ছে সেতুটিও উচ্চতার দিক দিয়ে কম। উচ্চতা বাড়িয়ে নির্মাণ করা না হলে এই সেতুর নিচ দিয়ে বড়ছড়া শুল্ক বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আসা কয়লা ও চুনা পাথর পরিবহন করতে পারবে না।

এলজিইডির তাহিরপুর উপজেলার প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল কবির বলেন, প্রতিটি সেতুই পরিকল্পনা ও ডিজাইন মতো করা হয়েছে। আগামীতে সেতু নির্মাণ করা হলে নদী পথে নৌ-যান চলাচলের জন্য সেতুর উচ্চতা ও দৈঘ্য বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে আমি কয়েকটি সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা সময়উপযোগী না হওয়ায় নতুন করে নকশা তৈরির প্রস্তাব করেছি। এতে করে বর্ষায় সেতুর নিচ দিয়ে নৌ-যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে না পাশাপাশি সেতুগুলোও সুরক্ষিত থাকবে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, নদী পথ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম। নদী পথে নৌযান চলাচলের জন্য সেতুর উচ্চতা ও দৈঘ্য বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ন। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলব যাতে করে তারাও এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.