Sylhet Today 24 PRINT

সীমান্ত এলাকায় মালটা চাষে সফল তিন কৃষক

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর |  ০৮ আগস্ট, ২০২১

সীমান্ত এলাকায় মেঘালয়ের নীল পাহাড়ের কাছাকাছি সবুজ মাল্টা বাগান চোখ জুড়িয়ে যায়। বাগানে যেদিক চোখ যায় সে দিকেই গাছে ঝুলে আছে মাল্টা।

বাগানে গাছের পরিচর্যার পাশিপাশি গাছ থেকে কৃষক গ্রীন মাল্টা তুলছেন বাজারে বিক্রির জন্য। সফল কৃৃষদের গড়া মাল্টা বাগান দেখতেও আসছেন অনেকে।

২০১৭ সালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চাষিদের বারি মাল্টা-১ চাষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি আগ্রহী চাষিদের বিনামূল্যে মাল্টা চারাও প্রদান করা হয়। এর দু বছর পর থেকেই ফল ধরতে শুরু করে। সারা বছর ফল দেয়। গাছের বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফলনও বাড়তে থাকে বলে জানান মাল্টা চাষীরা।

রসে ভরা এই গ্রিন মাল্টা অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুঘ্রাণযুক্ত হওয়ায় উপজেলা ও জেলায় চাহিদা বাড়ছে আর ব্যবসায়ীরাও হলুদ রঙের মাল্টার বিকল্প হিসাবে গ্রিন মাল্টা বিক্রি করছে আর সবাই কিনে নিচ্ছেন বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা

সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চিনাকান্দি ও সলুকাবাদ ইউনিয়নের আক্তাপাড়া, সোনাপাড়া গ্রামের তিন কৃষক গ্রিন মাল্টা চাষ করছেন। মাল্টা বিক্রি করে তারা এখন বেশ লাভবান। লাভবান হওয়ায় মাল্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে অন্যান্য চাষিদের মধ্যে।

বর্তমানে মাল্টা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন এই তিন চাষি। উপ-সহাকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান মাল্টা চাষীরা।

জানাযায়, একবার মাল্টা গাছের চারা রোপণ করলে এই গাছ দ্রুতই বড় হয়ে যাওয়ায় মাল্টা গাছের চারা আর রোপণ করতে হয় না। জুন মাসে ও ফেব্রুয়ারি মাসে বেশি ফল হয় গাছে। ফল গাঢ় সবুজ হয়। বড় আকারের মাল্টা হলদেভাব হলে বুঝা যায় ফলটি পরিপক্ক হয়েছে। বেশি পরিমাণে উৎপাদন পেতে হলে বাগানের চারিদিকে শক্ত ও মজবুত বেষ্টনী আর পরিচর্চা রাখতে হবে সার্বক্ষণিক।

ধনপুর ইউনিয়নের চিনাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও বিদেশ ফেরত আব্দুর রহমান গত দুই বছর পূর্বে উপজেলা কৃষি অফিস তাকে বিনামূল্যে ২০০ মাল্টা চারা দিলে গ্রিন মাল্টা চাষ শুরু করেন। এখন তার বাগানের ১৪০টি গাছে গ্রিন মাল্টা সুস্বাদু ফল ধরেছে প্রতিটি গাছে ২৫-৩০টি। মাটি ভরাট,চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী সহ প্রায় দুলক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে।
এ পর্যন্ত অন্তত ৮ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন তিনি। মাল্টার পাশাপাশি সবজির চাষ করছেন তিনি এতেও লাভবান হয়েছেন।

সলুকাবাদ ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামের চাষি সুলতান মিয়াকে উপজেলা কৃষি অফিস গ্রিন মাল্টা গাছ নিয়ে ৪ বছর পূর্বে দেড় কেয়ার জমিতে প্রায় দুইশত মাল্টার চারা রোপণ করেন। রোপণের দুই বছর পর ১৭০টি গাছে মাল্টা ফল ধরতে শুরু করে। এরপর থেকে মাল্টা বিক্রিও শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন। তার উৎপাদিত মাল্টা শহরে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা বলে জানান তিনি।

উপজজেলা কৃষি অফিস সোনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা চাষি আব্দুর রবকেও মাল্টা গাছের চারা প্রদান করলে তিনি ১০ শতক জমিতে ৫০টি গাছ রোপণ করেন। তিনি জানান, বাগান ছোট থাকায় মাত্র ২৫ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন।

সুনামগঞ্জ শহর ও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে  একাধিক ফল ব্যবসায়ী জানান, আমরা বাইরে থেকে হলুদ রঙের মাল্টা এনে বিক্রি করি। বেশি করে স্থানীয় উৎপাদিত মাল্টা বিক্রি করার চিন্তায় আছি কারন চাহিদাও আছে আর ভালও লাভ হয়।

ধনপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বলেন, আমার ব্লকের অন্তর্ভুক্ত এই মাল্টা বাগানে ভালো উৎপাদনের জন্য সার্বক্ষণিক পরামর্শও দিয়ে আসছি। এখন ভালো ফলন হয়েছে কৃষকদের। মাল্টা উৎপাদন কৃষকরা খুশি।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সাবেক কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস বলেন, আমি যখন ওই উপজেলায় ছিলাম তখনই বিদেশ থেকে ফিরে আসা ধনপুরের চাষি আব্দুর রহমানের এই মাল্টা চাষে আগ্রহ দেখে তাকে ২০০ গ্রিন মাল্টা চারা দেয়া হয়। এর আগে সলুকাবাদ ইউনিয়নের দুই চাষিকে মাল্টা চারা দেয়া হয়েছে। তারা এখন সফল চাষী। ইচ্ছা ও চেষ্টা থাকলে সফল হওয়া সহজ।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) সুনামগঞ্জের বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাকিব বলেন, আমরা বাগানের গাছ থেকে গ্রিন মাল্টা খেয়েছি। মাল্টা চাষের উপযোগী মাটি থাকায় এখানকার মাল্টা উৎপাদন ভালো হচ্ছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নয়ন মিয়া বলেন, সলুকাবাদ ইউনিয়নের দুইজন চাষিকেও মাল্টা চারা দেয়া হয়েছে। এরপর চাষি আব্দুর রহমানকে মাল্টা চাষ করার জন্য আমরা ২ বছর আগে চারা দিয়েছি। এর আগে এখন উপজেলায় তিন চাষী তিন স্থানে তাদের বাগানে মাল্টা ধরেছে। তারা মাল্টা বিক্রি করে লাভবান সেই সাথে সফল মাল্টা চাষী। উপজেলায় মাল্টা চাষে আগ্রহীদের পূূর্বের চাষীদের মতই সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও পরাামর্শ দেয়া হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.