নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮ আগস্ট, ২০২১
পুলিশের উপর হামলা মামলায় গ্রেপ্তার সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও যুবলীগ নেতা অরিন্দম চৌধুরী অপু জামিন পেয়েছেন। রোববার দুপুরে শাল্লার আমলগ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শ্যামকান্ত সিনহা তার জামিন প্রদান করেন।
অপুর ছোটভাই আইনজীবী অমিতাভ চৌধুরী রাহুল এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বিকেলের মধ্যে অপুর কারামুক্তির চেষ্টা করছি আমরা।
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকের ওপর হামলার অভিযোগে ১২ জুলাই রাতে গ্রেপ্তার করা হয় অরিন্দম চৌধুরী অপুকে।
তবে অপুর পরিবার শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছেন, হেফাজতের কারাবন্দি নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার দেয়ার জেরে অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২৯ জুলাই সিলেটের উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মফিজ উদ্দিন আহম্মদের কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগও করেন শাল্লা এলাকাবাসী।
এরপর গত ২ আগস্ট, অপুর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছিলেন যে পুলিশ কর্মকর্তা, সেই এসআই শাহ আলীকে শাল্লা থানা থেকে বদলি করা হয়।
১২ জুলাই গ্রেপ্তারের অপুর বিরুদ্ধে মাদক আইনেও আরেকটি মামলা করা হয়। রোববার দুই মামলায়ই জামিন পান তিনি।
অপুকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই তার পরিবার অভিযোগ করে আসছেন, পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনাটি সাজানো। হেফাজত নেতা মামুনুল হককে নিয়ে প্রচারিত একটি সংবাদের লিংক ফেসবুকে শেয়ার করার জেরে তাকে ফাঁসানো হয়। তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে নির্যাতনও করা হয়।
অরিন্দম চৌধুরী অপুর ভাই অমিতাভ চৌধুরী রাহুলের দাবি, হামলার অভিযোগ আনা এসআই শাহ আলী সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসা থেকে তার ভাইকে ফাঁসিয়েছেন।
অমিতাভ অভিযোগ করে বলেন, গত ৩ এপ্রিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তৎকালীন নেতা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে বেড়াতে গিয়ে জনরোষে পড়ার পরদিন তার স্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও ফাঁস হয়। যা প্রচার করে একাত্তর টিভি। ওই সংবাদের লিংক ফেসবুকে শেয়ার করেন অপু। এরপর স্থানীয় কয়েকজন তাকে হুমকি দেয়।
এর আগে ১৭ মার্চ একই উপজেলার নোয়াগাঁওয়ে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে। এ কারণে ফেসবুকের হুমকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ১০ এপ্রিল শাল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন অমিতাভ।
অমিতাভ বলেন, ‘সাধারণ ডায়েরি করার পরও থানা থেকে হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আমার ভাইয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তখন এসআই শাহ আলী আমার ভাইকে তার ফেসবুকে দেয়া লিংক মুছে ফেলার কথা বলেন এবং সাধারণ ডায়রি থেকে হেফাজত ইসলামের প্রসঙ্গটি বাদ দিতে চাপ দেন।
‘এসআই শাহ আলীর চাপ প্রয়োগের বিষয়টি গত ১৪ এপ্রিল আমরা পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে জানাই। পরে সার্কেল এএসপি বিষয়টি অনুসন্ধান করেন এবং এসআই শাহ আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি।’
এসপির কাছে অভিযোগ দেয়ায় শাহ আলী ক্ষুব্ধ হন অপুর ওপর, এমন অভিযোগ অমিতাভের।
তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার জেরেই এখন আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে হামলার মিথ্যে অভিযোগ তোলা হয়েছে। অথচ ঘটনার রাতে তিনি বাসায় ছিলেন। বাসা থেকে তাকে থানায় একটি জরুরি কাজের কথা বলে ডেকে নেয়া হয়। এরপর সেখানে তাকে রাতভর মারধর করা হয়। ভোররাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে একজন ফোন দিয়ে আমাদের এ তথ্য জানায়। এরপর আমরা হামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানতে পারি।’
গত ২৭ জুলাই 'সচেতন শাল্লাবাসী' প্যাডে ডিআইজি বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগেও এমন দাবি করা হয়।
অপুর বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সোমবার মধ্যরাতে ডিউটি শেষ করে থানা থেকে বের হয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন তিনি। পথে অপুর নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক এসআই শাহ আলীর উপর হামলা করেন। এতে গুরুতর আহত হন শাহ আলী।
তবে গত ১৭ জুলাই সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জিডি করার পর চাপ প্রয়োগের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা ওই সময়ই শেষ হয়ে গেছে। যে এসআইকে তারা অভিযুক্ত করেছিলেন তাকেই বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেই। তিনি প্রতিবেদন জমাও দেন। ফলে এই ঘটনার জেরে এখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়।’
তিনি জানান, অপুর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা রয়েছে থানায়। এর মধ্যে একটি পুলিশ এসল্ট মামলা। ফলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন কিছু নয়।