Sylhet Today 24 PRINT

অপমৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে পাওয়া গেল শিশুহত্যার প্রমাণ

ছোটমণি নিবাসে শিশুহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৩ আগস্ট, ২০২১

গত ২২ জুলাই ছোটমণি নিবাসে ২ মাস ১১ দিন বয়সী শিশু নাবিল আহমদের মৃত্যুতে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তর। অপমৃত্যুর মামলার পর তদন্তে নামে পুলিশ। সেখানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা ওই শিশুকে হত্যা করেন বলে ওঠে আসে।

ছোটমণি নিবাসের কক্ষে থাকা সিসিটিভে ফুটেজে শিশুটিকে খুনের প্রমাণ পাওয়া যায়। সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) রাতে এই ঘটনায় আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, গত ২২ জুলাই রাতে ছোটমণি নিবাসে কান্নাকাটি শুরু করে শিশু নাবিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা। নাবিলের কান্নাকাটিতে বিরক্ত হয়ে এক পর্যায়ে তাকে বিছানা থেকে তুলে ছুড়ে ফেলে দেন সুলতানা। এসময় বিছানার স্টিলের রেলিংয়ে বাড়ি খেয়ে মাটিতে পড়ে যায় শিশুটি। প্রচণ্ড আঘাতের ফলে তৎক্ষণাৎ জ্ঞান হারায় শিশু নাবিল। এরপর নাবিলের মুখের উপরে বালিশ চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন আয়া সুলতানা। এরপর প্রমাণাদি লুকানোর চেষ্টা করেন তিনি। তাকে সহযোগিতার করেন ছোটমণি নিবাসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ছোটমণি নিবাসের সিসি ক্যামেরায় শিশু নাবিল খুনের পুরো ঘটনাটি রেকর্ড হয়। এই রেকর্ডের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে আয়া সুলতানা ফেরদৌসীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ২৪ জুলাই কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (নম্বর-৪৫) দায়ের করে। এনিয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে তারা। তবে গত ১৯ দিনেও তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ বলেন, অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই হত্যার ঘটনাটি সামনে আসে। তদন্তে ছোটমণি নিবাসের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সেই ফুটেজে শিশুটিকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর এ ব্যাপারে এসপি, ডিসি, সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ সকলকে জানানো হয়। পরে ওই নারীকে আটকের সিদ্ধান্ত হলে শুক্রবার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আমরা সমাজসেবা কার্যালয় কর্তৃপক্ষকে বলেছি মামলা করতে। তারা যদি মামলা না করে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দেবে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা এখনো তদন্তাধীন আছে। তদন্তে যদি ছোটমণি নিবাসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে হত্যার ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নিবাস চন্দ্র দাশ বলেন, ঘটনার পরপরই শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত এখনও চলমান আছে।

এ বিষয়ে ছোটমনি নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রোকন দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সিলেট সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে ছোটমণি নিবাসে বর্তমানে আছে ৪২ শিশু। যাদের বয়স শূন্য থেকে সাত বছর পর্যন্ত। বর্তমানে ৪২ শিশুর তত্ত্বাবধানে আয়া রয়েছেন পাঁচজন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.