Sylhet Today 24 PRINT

কলেজের ভুলে উপবৃত্তিবঞ্চিত ২৩০ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৪ আগস্ট, ২০২১

বড়লেখা সরকারি কলেজ গেট। ছবি: সংগৃহীত।

ভুল ওয়েবসাইটে তথ্য এন্টি করায় উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে মৌলভীবাজারের বড়লেখা সরকারি কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণীর ২৩০ জন শিক্ষার্থী। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রায় ১৮ হাজার টাকার উপবৃত্তি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির এই টাকা প্রদানের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।  

এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

শিক্ষার্থী ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে ষষ্ঠ হতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেধাবী, দুস্থ, দরিদ্র-অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সমন্বিত উপবৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বড়লেখা সরকারি কলেজের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণীর ২৩০ জন শিক্ষার্থীকে উক্ত উপবৃত্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তথ্যাদি কলেজ কর্তৃপক্ষ অনলাইনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এইচএসপি অপশনে এন্ট্রি করার কথা। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের তথ্যাদি সঠিক ওয়েবসাইটে এন্ট্রি না করে সাধারণ বৃত্তির অপশনে এন্ট্রি করে দিয়েছে। এতে সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির (এইচএসপি) অপশনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কোনো তথ্য যায়নি। ফলে উপবৃত্তিবঞ্চিত হয় ২৩০ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থী মো. আরমান আলী, মাহফুজ আলী, আরিফুর রহমান, লামিয়া আক্তার, সাগর দেবনাথ, ফযলে রাব্বি, ইয়াহইয়া হানিফ খান, লিমন আহমদ, শাহরিয়ার হোসাইন ইমন প্রমুখ অভিযোগ করে বলেন, অনেক টানাপোড়নের মধ্যে আমরা লেখাপড়া করছি। অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রায় ১৮ হাজার টাকা করে উপবৃত্তি পেয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের ভুলে সরকারের দেওয়া বিরাট অঙ্কের উপবৃত্তি প্রাপ্তি থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। এ টাকা করোনাকালীন সময়ে আমাদের কত না উপকারে আসতো।’ তারা সমন্বিত উপবৃত্তির টাকা প্রদানের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানান।

বড়লেখা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জায়েদ আহমদ সিলেটটুডেকে বলেন, ‘ঘটনাটি আমি দায়িত্ব গ্রহণের আগের। বিষয়টি ধরা পাড়ার সাথে সাথে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের ফরওয়ার্ডিংসহ চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রোগ্রামার বরাবরে হার্ডকপিসহ সংশোধনের আবেদন করি। ১৬ জানুয়ারি আবেদনের রিসিভ কপি সংগ্রহ করেছি। এরপর একাধিকবার যোগাযোগও করেছি। আশ্বাস দেওয়া হয়েছে হবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখিন।’
      
বড়লেখা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম সিলেটটুডেকে বলেন, ‘বড়লেখা সরকারি কলেজ সমন্বিত উপবৃত্তি কার্যক্রমের ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীর তথ্যগুলো এন্টি না করে অন্য একটি ওয়েবসাইটে এন্টি করে। যার কারণে শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উপবৃত্তির তথ্য এন্টি করার সময় বারবার প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বলেছি তথ্য এন্টি করার জন্য। তারা জানায় এন্টি করা হয়েছে। কিন্তু আমার এখানে তথ্য এন্টির বিষয়টি দেখায়নি। পরে প্রতিষ্ঠান প্রধান আমাদের এখানে আসলে ভুল ওয়েবসাইটে এন্টি করার বিষয়টি ধরা পড়ে। ততক্ষণে তথ্য এন্টির সময় শেষ হয়ে যায়। এরপর সেন্ট্রাল প্রোগ্রামারের সাথে যোগাযোগ করে একটি ফরওয়ার্ডিংসহ দিয়েছি। কিন্তু এরপরও উপবৃত্তি হয়নি।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.