নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ আগস্ট, ২০২১
মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক সড়কের জুড়ী উপজেলার ভুয়াই বাজার থেকে চান্দগ্রাম বাজার পর্যন্ত পাকা সড়ক প্রায় ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। সড়কের এই অংশে বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এসব বাকের বেশিরভাগ জায়গায় নেই কোনো ধরনের সংকেত চিহ্ন। এছাড়া পাকা সড়কের দুই পাশে রয়েছে গাছের সারি। গাছের নিচে গজিয়ে উঠেছে বুনো ঝোপঝাড়। গাছের ডালপালা, লতাপাতা সড়কের ওপর এসে গড়িয়েছে। ফলে রাতে ওই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার বাইরে ছিটকে পড়ে। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে।
এবার দুর্ঘটনাপ্রবণ ওই সড়কে সোলার সড়কবাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়কের ৩৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সোলার বাতি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এগুলো স্থাপনের ফলে প্রত্যন্ত আঁকাবাঁকা এই আঞ্চলিক সড়ক সৌরবিদ্যুতের আলোয় সারা রাত আলোকিত থাকবে। এতে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ‘গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় কার্বন নির্গমন হ্রাস ও পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আঞ্চলিক মহাসড়কের ২৮ কিলোমিটারে ৩০ ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এসকল সড়ক বাতি স্থাপন করা হচ্ছে।
এবিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রাম হবে শহর’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শহরের মতো দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সড়কেও সৌরবাতির মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন সরকারের শ্লোগান, ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এখন আর শুধুই শ্লোগান নয়, সরকার এটা বাস্তবায়ন করেছে।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানির বহুল ব্যবহার বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি করছে যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী। সরকার এজন্য সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন স্থানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রত্যন্ত অঞ্চলের এধরনের সড়কে সড়ক বাতি স্থাপন করা হবে।’