বানিয়াচং প্রতিনিধি | ১৮ আগস্ট, ২০২১
বানিয়াচংয়ে ঐতিহাসিক মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (১৮ আগস্ট) বেলা এগারটায় নবনির্মিত মাকালকান্দি স্মৃতিসৌধে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানার সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়ার পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য আবুল কাশেম চৌধুরী,ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আমীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা আক্তার, সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইফফাত আরা জামান উর্মি,বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরান হোসেন,উপজেলা প্রকৌশলী মিনারুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমির হোসেন মাষ্টার,সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল খালেক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মজিদ খান বলেন, মাকালকান্দি গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি স্থায়ীভাবে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে দেয়ার। আমরা সেটা করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দ থেকে এই স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এই জন্য নিজেকে খুব ধন্য মনে করছি। তিনি আজকের দিনে গণহত্যায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১১নং মক্রমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহাদ মিয়া,আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক নজরূল ইসলাম,ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদ আলী,কাগাপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মোহিত চৌধুরী,৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জু কুমার দাস,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এ জেড এম উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আশরাফ সোহেল, সাধারণ সম্পাদক আসশাফ চৌধুরী বাবু, ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি মাহমুদ হোসেন খান মামুন, ইউপি ছাত্রলীগ সভাপতি আবুল কাশেম,গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী প্রাণগোপাল দাশ, সুপ্রাজিত চৌধুরী, ৫নং দৌলতপুর ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মলাই মিয়াসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ছাড়াও বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকগণ।
এর পূর্বে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা ৩৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঐতিহাসিক মাকালকান্দি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ আনুষ্ঠানিকভাবে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি এমপি আব্দুল মজিদ খান। পরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মাণাধীন ঘর পরিদর্শন করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে এই দিনে পাক হানাদাররা শতাধিক নারী-পুরুষ হত্যা করে। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও শহীদদের পরিবারকে দেওয়া হয়নি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বীকৃতি। জানা যায়, হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজ থেকে ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট ভোরে অর্ধশতাধিক নৌকা নিয়ে রওয়ানা দেয় পাক হানাদার বাহিনী। বানিয়াচং থেকে স্থানীয় রাজাকাররা তাদের সাথে যোগ দেয়। আনুমানিক সকাল ৮ ঘটিকায় ঘাতকরা পৌছায় বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়নের দুর্গম পল্লী এলাকা মাকালকান্দি গ্রামে। কিন্তু গ্রামবাসী চণ্ডী মন্দিরে মনসা পূজা করছিলেন। কোন কিছু বুঝার আগেই পূজায় মগ্ন নিরীহ নরনারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পরে নরপশুর দল। চালানো হয় মুহুর্মুহু গুলি।