নবীগঞ্জ প্রতিনিধি | ১৯ আগস্ট, ২০২১
আষাঢ়ে অনাবৃষ্টির কারণে আমনের আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন চাষীরা। কিন্তু গত এক সপ্তাহ থেকে টানা বৃষ্টি বইতে শুরু করেছে। বৃষ্টির পানি পেয়ে আমনের জমিতে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন নবীগঞ্জের চাষীরা। তবে একই সাথে জমি চাষাবাদের কারণে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও।
তবুও থেমে নেই আমান ধান রোপনের প্রস্তুতি। তবে এই মৌসুমে ধানে লাভ কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন উপজেলার কৃষকরা।
আমনের আবাদের জন্য প্রকৃতির বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিলেন চাষিরা। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে জমিতে আমনের চারা রোপনের উপযুক্ত সময় হলেও, বৃষ্টি অভাবে মাঠের পর মাঠ জমি অনাবাদি পড়েছিল। আবার গভীর ও অগভীর নলকূপ থেকে পানি দিয়ে বাড়তি খরচ করে জমি তৈরী করেছিলেন অনেক কৃষক।
তবে বর্ষকাল শেষ হওয়ার পর নবীগঞ্জে শুরু হয়েছে টানা বৃষ্টি। এ সুযোগে বৃষ্টির পানিতে আমনের জমিতে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। তবে একই সাথে জমি চাষাবাদের কারণে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে জমিতে চারা রোপনের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে চাষিরা।
নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের চুনু মিয়া এবার ২০ কিয়ার জমিতে আমন ধান রোপন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। বৃষ্টিতে স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগের খরার কারণে আমরা জমি তৈরি করতে পারছিলাম না। আর আমন ধানে সেচ দিয়ে ধান চাষ করলে কৃষকরা তেমন একটা লাভবান হবেন না। কারণ এই ধানের ফলন তেমন একটা হয় না। আমন ধান রোপন করতে দেরি হওয়ার কারণে সেচ দিয়ে জমি চাষ করা শুরু করি। কিন্তু সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে আর সেচ দিয়ে জমি চাষ করতে হচ্ছে না।
নবীগঞ্জ উপজেলার খসবা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এখন আমরা আমন ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছি কিন্তু মজুরের দাম অনেক বেশি। এমনিতে বৃষ্টির কারণে আমন ধান রোপেন অনেকটা দেরি হয়ে গেছে তার উপর আবার শ্রমিকদের সংকট। যে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তাদের মজুরি দিতে হচ্ছে অনেক বেশি। কিন্তু উপায় নেই জমিতো আর ফেলে রাখা যাবে না। তাই বাধ্য হয়েই ধান রোপন করছি।
নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর পশ্চিম ইউনিয়নের শ্রমিক রাকেশ দাশের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সব সময় বৃষ্টি হচ্ছে আর এই বৃষ্টিতে ভিজে অনেক কষ্ট করে আমরা ধান রোপন করছি। আর বর্তমানে বাজারে সবকিছুর দাম বেশি তাই মজুরি বেশি না নিলে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চলবো কেমন করে। তাই আমরাও আমাদের কাজের মজুরি বৃদ্ধি করেছি দাদা।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার এ, কে, এম, মাকসুদুল আলম জানান, “নবীগঞ্জ উপজেলায় এবার ১২ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হবে। ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ১০ হাজার ৫ হেক্টর জমি আমন ধানের রোপণ হয়েছে। আশা করছি আমাদের লক্ষ্যমাত্রা থেকে আরও বেশি আবাদ হবে।