নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৯ আগস্ট, ২০২১
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ ছিল দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। এদিন সকাল থেকে মৌলভীবাজারের বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে প্রবেশের প্রধান ফটকে ভিড় করেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকেরা। তারা ফটক খোলার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। খুলে দেওয়া হয়নি মাধবকুণ্ডের ফটক। শেষ পর্যন্ত তারা হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন।
এ ব্যাপারে বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বলেন, ‘মাধবকুণ্ড পর্যটকদের জন্য গেট খুলে দেওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তাই খুলে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় জলপ্রপাত এলাকায় প্রবেশের রাস্তায়, সিঁড়িতে শ্যাওলা জমেছে। এগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছনতার কাজ চলছে। পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়া গেলে খুলে দেওয়া হবে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে গত ১ এপ্রিল মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বনবিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শর্তসাপেক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে দেশের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় অন্য স্পটের মতো মাধবকুণ্ডেও ভিড় জমান পর্যটকেরা। সৌন্দর্য পিপাসুরা সকাল থেকেই ইকোপার্কের প্রধান ফটকে জড়ো হন। কিন্তু ফটক বন্ধ থাকায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় সহস্রাধিক পর্যটককে ফিরতে হয়েছে হতাশ হয়ে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, মাধবকুণ্ড ফটকের সামনে নানা বয়সী (নারী-পুরুষ) শত মানুষের ভিড়। তারা প্রবেশের জন্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা ও বন বিভাগের বিট কর্মকর্তার সাথে কথা বলছেন। তবে তারা (দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা) নির্দেশনা না পাওয়ার বিষয়টি পর্যটকদের জানান। এমন এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাহাড়ি পথে জলপ্রপাত এলাকায় প্রবেশ করেন। তবে বেশিরভাগ পর্যটকই জলপ্রাপাত এলাকায় যেতে না পেরে আশপাশের চা বাগান এলাকা ঘুরে বেড়িয়েছেন। দীর্ঘদিন পর পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে এমন সংবাদে প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন সেখানকার পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা।
সিলেট থেকে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসেন মিজানুর রহমান। তারা পাহাড়ি পথে ঝুঁকি নিয়ে জলপ্রপাত এলাকায় প্রবেশ করেন। মিজান বলেন, ‘দীর্ঘ ৫ মাস পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় কোথাও যেতে পারিনি। পর্যটন কেন্দ্র খোলার পর প্রথমে মাধবকুণ্ড বেড়াতে এসেছি। এসে দেখি গেট বন্ধ। অনেক দূর থেকে এসেছি। তাই পাহাড়ি পথে জলপ্রপাতে গিয়েছি।’
মাধবকুণ্ড পর্যটক সহায়ক ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন জানান, প্রায় পাঁচ মাস পর দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার খবরে এখানকার ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়। কিন্ত বনবিভাগ মাধবকুণ্ড ইকোপার্কটি খুলে দেয়নি। বৃহস্পতিবার প্রায় এক হাজারের মতো পর্যটক হতাশ হয়ে গেট থেকে ফিরে গেছেন।
মাধবকুণ্ডে দায়িত্বে থাকা পর্যটন পুলিশের সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) প্রণীত চাকমা বলেন, ‘মাধবকুণ্ড খোলার বিষয়ে বনবিভাগের কাছে নির্দেশনা আসেনি। তাই ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। অনেক লোকজন এসেছেন। আমরা গেট থেকে তাদের ফেরত পাঠিয়েছি।’