দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি | ২৫ আগস্ট, ২০২১
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে করেছেন এক প্রবাসী!
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ নয় বছর সংসার করার পর প্রবাসে থেকেই শ্যালিকার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মাওলানা রশীদ আহমদ। এই সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে (২৮) তালাক দেন তিনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তার মানসিক সমস্যা থাকায় তাকে তালাক দিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে করেছেন রশীদ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত সামসুদ্দিনের পুত্র কুয়েত প্রবাসী হাফিজ মাওলানা রশীদ আহমদ প্রায় নয় বছর পূর্বে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকলস গ্রামের হারুন অর রশিদের এক মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়ার পর রশীদ আহমদ কুয়েতে পাড়ি জমান। সেখানে থেকেই শ্যালিকার (২১) সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের এ সম্পর্ক গোপন থাকলেও একপর্যায়ে তা জানাজানি হয়ে যায়।
গত ঈদুল আযহার আগে বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসে ছোটবোন। এখানে থাকাবস্থায় অন্যত্র তার বিয়ের দিনতারিখ ঠিক করা হয়। এর কিছুদিন পরেই প্রবাসে থেকেই স্ত্রীকে তালাকের দেন মাওলানা রশীদ আহমদ।
এ অবস্থায় স্বপ্না বেগমের বড়ভাই বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য দোয়ারাবাজারের থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারী বলেন, 'আমার বোনের জামাইয়ের চাচা একই গ্রামের বাবুল মিয়া আমার ছোটবোনকে তার বাড়িতে কৌশলে জিম্মি করে রেখেছে এবং তার স্ত্রীকে মারপিট করে জোরপূর্বক তালাকনামায় সাক্ষর নেয়। অতি সম্প্রতি বাবুল মিয়া মোবাইল ফোনে আমাকে জানায়, 'তোমার বোনকে তালাক দেওয়া হয়ে গেছে। তোমার বোনকে তুমি এসে নিয়ে যাও। না নিলে আমরা তাকে ঘর থেকে বের করে দেব।'
দুই সন্তানের জননী ওই মেয়ে বলেন, 'আমার দুটি সন্তান রয়েছে। আমি আমার স্বামীর সংসার করতে চাই। কিন্তু আমার কাছ থেকে চাচা শ্বশুর বাবুল মিয়া তালাকনামায় জোরপূর্বক দস্তখত নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন। দুটি সন্তান রেখে আমি এখন বাঁচব কি করে! আমার ছোটবোনের সাথে প্রবাসী স্বামীর পরকীয়া আমার সংসারের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি সন্তানদের নিয়ে বাঁচতে চাই।'
মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ দেব দুলাল ধর বলেন, এব্যাপারে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত করে দেখলাম প্রবাসীর স্ত্রীর মানসিক সমস্যা থাকায় পারিবারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে শ্যালিকাকে বিয়ের প্রস্তুতি নেয়। শ্যালিকাও স্বেচ্ছায় তার বোনজামাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানান। পরে যারা অভিযোগ দিয়েছিল তারা এবিষয়ে আর যোগাযোগ করেনি।'